শিশুর জ্বর কমছে না? সঙ্গে র‌্যাশ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

শিশুর জ্বর সাধারণত ভাইরাসজনিত নানা সংক্রমণের কারণে হতে পারে। কিন্তু জ্বর কয়েক দিন ধরে চলার পাশাপাশি শরীরে র‌্যাশ, চোখ লাল হয়ে যাওয়া বা ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এসব লক্ষণ কাওয়াসাকি রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে এই রোগ শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

কাওয়াসাকি রোগ কী?

কাওয়াসাকি ডিজিজ মূলত শিশুদের একটি প্রদাহজনিত রোগ। এতে শরীরের বিভিন্ন রক্তনালিতে প্রদাহ তৈরি হয় এবং বিশেষ করে হৃদ্‌যন্ত্রের করোনারি ধমনিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এটি তুলনামূলক বেশি দেখা গেলেও বড় শিশুরাও আক্রান্ত হতে পারে।

এই রোগের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। সংক্রমণ, জিনগত প্রবণতা এবং পরিবেশগত বিভিন্ন কারণ নিয়ে গবেষণা হয়েছে।

কোন লক্ষণগুলো নজরে রাখবেন?

দীর্ঘস্থায়ী জ্বরের সঙ্গে একাধিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। যেমন— কয়েক দিন ধরে জ্বর থাকা এবং সহজে না কমা, চোখের সাদা অংশ লাল হয়ে যাওয়া, ঠোঁট শুষ্ক, লাল বা ফেটে যাওয়া, জিভ অস্বাভাবিক লাল হয়ে ওঠা, গলার লসিকা গ্রন্থি বা লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া, হাত-পায়ের তালু লাল হওয়া বা ফুলে যাওয়া, শরীরের বিভিন্ন অংশে র‌্যাশ দেখা দেওয়া, পরবর্তী সময়ে হাত-পায়ের আঙুলের চামড়া ওঠা এবং শিশুর অস্বাভাবিক খিটখিটে আচরণ, পেটের সমস্যা বা ডায়রিয়া।

তবে সব লক্ষণ একসঙ্গে থাকা জরুরি নয়। তাই দীর্ঘস্থায়ী জ্বরের সঙ্গে কয়েকটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উপসর্গ থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য কেন ঝুঁকিপূর্ণ?

কাওয়াসাকি রোগের অন্যতম গুরুতর জটিলতা হলো করোনারি ধমনিতে প্রদাহ বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন। চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হলে হৃদ্‌যন্ত্রের রক্তনালিতে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এজন্য রোগের সম্ভাবনা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ।

কীভাবে চিকিৎসা করা হয়?

রোগ নির্ণয়ের পর শিশুর অবস্থা অনুযায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হতে পারে। প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকেরা সাধারণত ইন্ট্রাভেনাস ইমিউনোগ্লোবিউলিনসহ নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহার করেন। কিছু ক্ষেত্রে অ্যাসপিরিনও চিকিৎসার অংশ হতে পারে।

তবে শিশুকে নিজের সিদ্ধান্তে অ্যাসপিরিন বা অন্য কোনও ওষুধ দেওয়া উচিত নয়। ওষুধের মাত্রা, ব্যবহারের সময় এবং পরবর্তী চিকিৎসা অবশ্যই চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

জ্বর হলেই কি কাওয়াসাকি?

না। শিশুদের জ্বরের অনেক সাধারণ কারণ রয়েছে এবং জ্বর বা র‌্যাশ থাকলেই কাওয়াসাকি হয়েছে এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক শিশুর উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল বিবেচনা করেন। সন্দেহ থাকলে হৃদ্‌যন্ত্রের অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করা হতে পারে।

তাই শিশুর জ্বর কয়েক দিন ধরে চললে, বিশেষ করে তার সঙ্গে চোখ লাল হওয়া, র‌্যাশ, ঠোঁটের পরিবর্তন বা হাত-পা ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ যুক্ত হলে দ্রুত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।