কোলেস্টেরল স্বাভাবিক, তবু হার্ট অ্যাটাক হতে পারে যে কারণে

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে, নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, খাবারদাবারেও সচেতন তবু কি হার্ট অ্যাটাক হতে পারে? শুধু কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেই হৃদ্‌যন্ত্রের ঝুঁকি পুরোপুরি কেটে যায় না। শরীরে এমন কিছু ঝুঁকির কারণ থাকতে পারে, যা সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সহজে ধরা পড়ে না।

হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান কারণ হলো করোনারি ধমনিতে প্লাক জমা। কোলেস্টেরল ও অন্যান্য চর্বিজাতীয় পদার্থ ধমনির ভেতরে জমতে থাকলে রক্ত চলাচলের পথ সংকুচিত হয়। কোনও ক্ষেত্রে সেই প্লাক হঠাৎ ফেটে গিয়ে রক্ত জমাট তৈরি করতে পারে। তখন হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

সাধারণ লিপিড প্রোফাইলেই সব ঝুঁকি ধরা পড়ে না

রক্তের প্রচলিত লিপিড প্রোফাইলে সাধারণত এলডিএল, এইচডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা দেখা হয়। কিন্তু এতে লাইপোপ্রোটিন (এ) বা ধরা পড়ে না।

এটি একটি বংশগতভাবে নির্ধারিত রক্তের উপাদান। শরীরচর্চা বা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এর মাত্রা সাধারণত খুব বেশি পরিবর্তিত হয় না। ফলে কারও প্রচলিত কোলেস্টেরল পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক হলেও লাইপোপ্রোটিন (এ) বেশি থাকলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি থাকতে পারে।

শরীরে প্রদাহ থাকলেও বিপদ বাড়তে পারে

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির সঙ্গে শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহেরও সম্পর্ক রয়েছে। ধমনিতে থাকা ছোট প্লাকের চারপাশে প্রদাহ তৈরি হলে সেটি দুর্বল হয়ে ফেটে যেতে পারে। এর ফলে রক্ত জমাট বেঁধে ধমনির প্রবাহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

রক্তে সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন বা সিআরপি-এর মাত্রা প্রদাহের একটি নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাই শুধু কোলেস্টেরলের রিপোর্ট দেখেই হৃদ্‌যন্ত্রের সামগ্রিক ঝুঁকি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া সবসময় যথেষ্ট নয়।

ডায়াবিটিসের আগের ধাপও গুরুত্বপূর্ণ

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, প্রিডায়াবিটিস ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের অন্যান্য সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে রক্তনালি ও ধমনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের ডায়াবিটিস হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

অর্থাৎ, কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও রক্তে শর্করা ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের সমস্যা থাকলে হৃদ্‌যন্ত্রের ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা ও দূষণও উপেক্ষা নয়

একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। এর পাশাপাশি ধূমপান হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির ক্ষতির অন্যতম পরিচিত কারণ।

বায়ুদূষণের সংস্পর্শও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই শুধু খাবার ও কোলেস্টেরলের দিকে নজর না দিয়ে নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং সামগ্রিক জীবনযাপনের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

কোলেস্টেরল ঠিক থাকলেই নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে?

কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকা অবশ্যই হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি নির্ধারণে বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, ধূমপান, শারীরিক সক্রিয়তা এবং অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়ও বিবেচনা করা হয়।

তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পরিবারে অল্প বয়সে হৃদ্‌রোগের ইতিহাস থাকলে বা অন্য ঝুঁকির কারণ থাকলে শুধু সাধারণ কোলেস্টেরল রিপোর্টের ওপর নির্ভর না করাই ভালো।