রাতের ৩ অভ্যাসেই নষ্ট হচ্ছে শরীরের ছন্দ, এখনই সতর্ক হোন

দিনভর কী খেলেন, তার পাশাপাশি রাতের খাবারের সময় ও ধরনও শরীরের ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে রাতের খাবার দেরিতে খাওয়া, একসঙ্গে বেশি খেয়ে নেওয়া কিংবা খাবারের পর কিছু ভুল অভ্যাস নিয়মিত করলে বিপাকক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। রক্তে শর্করার ওঠানামা থেকে শুরু করে পেটের অস্বস্তিসহ বিভিন্ন সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই রাতে কয়েকটি অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনা জরুরি।

বিকালের খাবার বাদ দেবেন না

বিকাল থেকে রাতের খাবারের মধ্যে অনেকটা সময়ের ব্যবধান হলে অতিরিক্ত খিদে পেতে পারে। তখন রাতের খাবারের সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি এড়াতে বিকালে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খেতে পারেন। টক দই, সেদ্ধ ডিম, বাদাম বা ছোলা যে কোনও একটি বেছে নিতে পারেন। তবে অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।

রাতের খাবারে পরিমাণের দিকে নজর দিন

রাতে পেট ভরে ভারী খাবার খেয়ে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস শরীরের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। খাবারের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে শাকসব্জি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। ভাত বা অন্য শর্করাজাতীয় খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

খাবারের পর মিষ্টি ও অতিরিক্ত চা-কফি নয়

রাতের খাবারের পর মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা বদলানো ভালো। বিশেষ করে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে যাদের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে মিষ্টিজাতীয় খাবার বাড়তি সতর্কতার বিষয়। একই ভাবে রাতের দিকে চা বা কফি খেলে ক্যাফিনের কারণে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে পরোক্ষ ভাবে বিপাকক্রিয়া ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব পড়তে পারে।

রাতে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার মূল কথা হল সময়মতো, পরিমিত এবং সুষম খাবার খাওয়া। তবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত বেশি থাকলে শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ডায়াবিটিস বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে খাদ্যাভ্যাসও আলাদা হতে পারে।