নখের রং হঠাৎ বদলে যাওয়া, নখ মোটা হয়ে যাওয়া কিংবা সহজেই ভেঙে পড়াকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু এসব লক্ষণ নখে ছত্রাকের সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সংক্রমণকে ‘অনাইকোমাইকোসিস’ বলা হয়। সাধারণত পায়ের নখেই এটি বেশি দেখা যায়। সংক্রমণ হলে নখ হলুদ, সাদা বা বাদামি হয়ে যেতে পারে। নখের স্বাভাবিক গঠনও বদলে গিয়ে তা মোটা, ভঙ্গুর বা খসখসে হয়ে উঠতে পারে।
নখে ছত্রাকের সংক্রমণের অন্যতম কারণ হলো দীর্ঘ সময় উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে থাকা। পায়ের আঙুলের ফাঁকে ছত্রাকের সংক্রমণ থাকলে সেখান থেকেও নখে ছড়িয়ে পড়তে পারে। অতিরিক্ত ঘাম হয় এমন পা, দীর্ঘ সময় ভেজা জুতা বা মোজা পরে থাকা এবং সুইমিং পুল, গণগোসলের জায়গা বা লকার রুমে খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাসে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। অন্যের নখ কাটার যন্ত্র বা ব্যক্তিগত সামগ্রী ব্যবহার করলেও ছত্রাক ছড়াতে পারে।
তবে নখের রং বা গঠন বদলালেই যে ছত্রাকের সংক্রমণ হয়েছে, এমনটা নয়। নখে আঘাত, ত্বকের কিছু রোগসহ অন্যান্য কারণেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তাই নিজে থেকে ওষুধ ব্যবহার না করে প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চিকিৎসক পরীক্ষা করে প্রয়োজন হলে নখের সামান্য অংশ নিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণের কারণ নিশ্চিত করতে পারেন।
চিকিৎসা নির্ভর করে সংক্রমণের ধরন ও মাত্রার ওপর। হালকা সংক্রমণে নখে ব্যবহারের জন্য ছত্রাকনাশক ওষুধ দেওয়া হয়। সংক্রমণ বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে মুখে খাওয়ার ছত্রাকনাশক ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। এসব ওষুধ নিজের ইচ্ছায় ব্যবহার করা ঠিক নয়, কারণ কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নজরদারি প্রয়োজন হয়।
নখের ছত্রাকের চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধৈর্য। চিকিৎসা শুরু করার পর সংক্রমণ কমে গেলেও নখ সঙ্গে সঙ্গে আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। বিশেষ করে পায়ের নখ ধীরে বাড়ে। আক্রান্ত অংশ পুরোপুরি কেটে গিয়ে নতুন সুস্থ নখ গজাতে অনেক মাস সময় লাগতে পারে। তাই উপসর্গ কিছুটা কমে গেলেই চিকিৎসা বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুরো চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়।
ছত্রাকের সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে নখ ছোট ও পরিষ্কার রাখা, হাত-পা ধোয়ার পর ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া এবং নিয়মিত মোজা পরিবর্তন করা জরুরি। অতিরিক্ত ঘাম হলে পা শুকনো রাখার চেষ্টা করতে হবে। ভেজা জুতা দীর্ঘ সময় পরে থাকা উচিত নয়। সুইমিং পুল বা গণগোসলের জায়গায় খালি পায়ে হাঁটার পরিবর্তে স্যান্ডেল ব্যবহার করা ভালো। নখ কাটার যন্ত্র অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি না করাও গুরুত্বপূর্ণ।
নখের চারপাশের ত্বক অযথা কেটে ফেলা বা খুঁটিয়ে ক্ষত করা থেকেও বিরত থাকা উচিত। নখে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো যায়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকার মতো সমস্যা থাকলে নখের সংক্রমণকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সঠিকভাবে রোগ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে নখের ছত্রাকের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই নখের রং ও গঠনে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলে ঘরোয়া উপায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।