হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কি এক?

হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট দুটি শব্দ প্রায়ই একই অর্থে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ দুটি আলাদা অবস্থা। দুটিই প্রাণঘাতী হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। তবে কেন হয়, কী লক্ষণ দেখা দেয় এবং জরুরি মুহূর্তে কী করতে হবে সেই ক্ষেত্রে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন (এএইচএ) ও যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) জানিয়েছে, হার্ট অ্যাটাক মূলত হৃদ্‌যন্ত্রে রক্তপ্রবাহের সমস্যা। অন্যদিকে, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট সাধারণত হৃদ্‌যন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যক্রমে গোলযোগের কারণে ঘটে।

হার্ট অ্যাটাক কী?

হৃদ্‌যন্ত্রের পেশিতে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছায় করোনারি ধমনির মাধ্যমে। কোনও কারণে এই ধমনিতে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে হৃদ্‌যন্ত্রের একটি অংশ পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। দ্রুত চিকিৎসা না হলে ওই অংশের পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই অবস্থাকেই হার্ট অ্যাটাক বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়া বলা হয়।

হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে বুকে চাপ, ব্যথা বা ভারী অনুভূতি, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব এবং মাথা ঘোরা। ব্যথা হাত, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল বা পেটের ওপরের অংশেও ছড়াতে পারে। সবার ক্ষেত্রে একই লক্ষণ দেখা যায় না। কখনও উপসর্গ মৃদু বা অস্পষ্টও হতে পারে।

কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কী?

কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে হৃদ্‌যন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যক্রমে গোলযোগ দেখা দেয়। এর ফলে হৃৎস্পন্দন এমনভাবে অনিয়মিত হতে পারে যে হৃদ্‌যন্ত্র কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে না। হঠাৎ রক্তসঞ্চালন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মস্তিষ্কসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিতে অক্সিজেন পৌঁছানো ব্যাহত হয়।

এ অবস্থায় রোগী হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়তে পারেন, ডাকলে সাড়া নাও দিতে পারেন এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া বন্ধ হতে পারে। কখনও শুধু হাঁসফাঁস করার মতো শ্বাস দেখা যায়। এটি জীবনসংকটজনক জরুরি অবস্থা।

দুটির মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

হার্ট অ্যাটাকে হৃদ্‌যন্ত্রের পেশিতে রক্ত পৌঁছানোর সমস্যা হয়। কিন্তু কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করার প্রক্রিয়া হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। হার্ট অ্যাটাকের সময় সাধারণত রোগী সচেতন থাকেন এবং হৃদ্‌যন্ত্র স্পন্দিত হতে থাকে, যদিও গুরুতর অবস্থায় জটিলতা দেখা দিতে পারে। কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে রোগী সাধারণত দ্রুত অচেতন হয়ে পড়েন এবং স্বাভাবিক শ্বাস থাকে না।

তবে এই দুই অবস্থার মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। হার্ট অ্যাটাকের কারণে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে, যদিও প্রত্যেক হার্ট অ্যাটাকেই এমন ঘটে না। আবার হৃদ্‌যন্ত্রের ছন্দের গোলযোগসহ অন্য সমস্যার কারণেও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন?

কারও বুকে চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা ঠান্ডা ঘামের মতো লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন। উপসর্গ নিজে থেকে কমে যায় কি না, তা দেখার জন্য সময় নষ্ট করবেন না।

কেউ হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে দেখুন তিনি সাড়া দিচ্ছেন কি না এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন কি না। সাড়া না দিলে এবং স্বাভাবিক শ্বাস না থাকলে জরুরি পরিষেবায় ফোন করুন, সিপিআর শুরু করুন এবং কাছে স্বয়ংক্রিয় বহিঃস্থ ডিফিব্রিলেটর (এইডি) থাকলে তার নির্দেশ অনুসরণ করুন। প্রশিক্ষণ না থাকলে জরুরি পরিষেবার ফোন-অপারেটরের নির্দেশ মেনে বুকের মাঝখানে দ্রুত ও জোরে চাপ দিতে থাকুন।

মনে রাখবেন, হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এক নয়, তবে দুটিই জরুরি চিকিৎসার দাবি রাখে। লক্ষণ চিনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তথ্যসূত্র: আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন (এএইচএ) ও যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা (এনএইচএস)।