মুখের ত্বক নিয়ে যতটা সচেতনতা, হাতের ক্ষেত্রে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায় না অনেকের মধ্যে। অথচ প্রতিদিন রোদ, জল, সাবান, ডিটারজেন্ট ও নানা রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসে হাত। সময়ের সঙ্গে এর প্রভাব পড়ে হাতের ত্বকেও। ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, কালচে ছোপ দেখা দেয়, সূক্ষ্ম রেখা স্পষ্ট হয়, এমনকি হাতের শিরাগুলিও আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠতে পারে। তবে নিয়মিত কিছু যত্ন নিলে হাতের ত্বক নরম, মসৃণ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখা সম্ভব।
১. হাতেও নিয়মিত সানস্ক্রিন: শুধু মুখ নয়, হাতের ত্বকও সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির ক্ষতির শিকার হয়। দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে হাতের পিঠে পিগমেন্টেশন ও বয়সের ছাপ আরও স্পষ্ট হতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর আগে হাতের খোলা অংশে ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন লাগানো ভালো। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে নির্দিষ্ট বিরতিতে আবারও ব্যবহার করতে হবে।
২. হাত শুকিয়ে যাওয়ার আগেই ময়েশ্চারাইজার: বার বার হাত ধোয়া এবং স্যানিটাইজার ব্যবহারের কারণে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। তাই হাত ধোয়ার পর পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা না করে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর অভ্যাস করুন। সেরামাইড, গ্লিসারিন বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিড-যুক্ত ময়েশ্চারাইজার শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
৩. খুব কড়া সাবান এড়িয়ে চলুন: পরিষ্কার রাখার জন্য হাত ধোয়া জরুরি। কিন্তু অতিরিক্ত কড়া সাবান বা ডিটারজেন্ট ত্বকের প্রতিরক্ষামূলক স্তর দুর্বল করে দিতে পারে। ফলে হাত রুক্ষ ও টানটান লাগে। তাই সম্ভব হলে মৃদু, ত্বকবান্ধব ক্লিনজার ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত গরম জলও এড়িয়ে চলা ভালো।
৪. রাতে বাড়তি যত্ন: দিনভর হাতের উপর যে চাপ পড়ে, রাতে সেটি সামলে নেওয়ার সুযোগ থাকে। ঘুমোতে যাওয়ার আগে হাতে একটু ঘন ময়েশ্চারাইজার বা হ্যান্ড ক্রিম লাগিয়ে নিন। বিশেষ করে আঙুলের গাঁট, নখের চারপাশ এবং হাতের পিঠে ভালো করে মাখুন। খুব শুষ্ক ত্বক হলে রাতে ক্রিম লাগিয়ে সুতির গ্লাভস পরেও ঘুমানো যেতে পারে।
৫. বয়সের ছাপ কমাতে উপযুক্ত উপাদান: হাতের ত্বকে সূক্ষ্ম রেখা বা অসম রং নিয়ে সমস্যা থাকলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শে রেটিনয়েড, ভিটামিন সি বা পেপটাইড-যুক্ত পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলি ত্বকের গঠন ও কোলাজেন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সংবেদনশীল ত্বকে নতুন কোনও উপাদান ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
৬. ঘরের কাজের সময় গ্লাভস: বাসন মাজা, কাপড় কাচা কিংবা ঘর পরিষ্কারের সময় নানা ধরনের ডিটারজেন্ট ও রাসায়নিক সরাসরি হাতের সংস্পর্শে আসে। নিয়মিত এমন সংস্পর্শে ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যেতে পারে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের সময় রাবার বা উপযুক্ত সুরক্ষামূলক গ্লাভস ব্যবহার করা যেতে পারে। কাজ শেষে হাত ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না।
৭. অতিরিক্ত স্ক্রাব নয়: হাতের ত্বক মসৃণ করার জন্য অনেকে ঘন ঘন স্ক্রাব করেন। কিন্তু অতিরিক্ত ঘষাঘষিতে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে ত্বকে শুষ্কতা, জ্বালা বা ফাটার প্রবণতা থাকলে শক্ত স্ক্রাব এড়িয়ে চলাই ভালো। প্রয়োজন হলে মৃদু এক্সফোলিয়েশন করুন এবং পরে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
হাতের সৌন্দর্য ধরে রাখতে দামি প্রসাধনীর চেয়ে নিয়মিত যত্নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রোদ থেকে সুরক্ষা, পর্যাপ্ত আর্দ্রতা, মৃদু ক্লিনজিং এবং রাসায়নিক থেকে হাতকে দূরে রাখা—এই কয়েকটি অভ্যাস নিয়মিত মেনে চললেই হাতের ত্বক অনেক দিন পর্যন্ত নরম ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখা সম্ভব।