এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এমন কিছু লাইব্রেরি রয়েছে, যেগুলো শুধু বইয়ের বিশাল সংগ্রহের জন্য নয়, অনন্য স্থাপত্য, নান্দনিক নকশা ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশের জন্যও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এসব লাইব্রেরি পাঠকের পাশাপাশি স্থাপত্যপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদেরও আকর্ষণ করে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক এমনই পাঁচটি অসাধারণ লাইব্রেরির কথা।
তিয়ানজিন বিনহাই লাইব্রেরি, চীন
চীনের তিয়ানজিন শহরের এই লাইব্রেরি বিশ্বের অন্যতম আলোচিত স্থাপত্যকর্ম। এর কেন্দ্রে রয়েছে বিশাল গোলাকার একটি কাঠামো, যার নাম ‘দ্য আই’। চারপাশে ঢেউয়ের মতো বয়ে যাওয়া বুকশেলফ পুরো ভবনটিকে এক ভবিষ্যতমুখী রূপ দিয়েছে। বই পড়ার পাশাপাশি এর অনন্য নকশা দেখতে প্রতিদিনই অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে আসেন।
স্টারফিল্ড লাইব্রেরি, দক্ষিণ কোরিয়া
সিউলের কোএক্স মলের ভেতরে অবস্থিত স্টারফিল্ড লাইব্রেরি দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান। কয়েকতলা উঁচু বুকশেলফ, খোলা পাঠকক্ষ এবং আধুনিক নকশা এটিকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে। সারা বছর এখানে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পবিষয়ক নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, যা লাইব্রেরিটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
কাদোকাওয়া কালচার মিউজিয়াম লাইব্রেরি, জাপান
জাপানের সাইতামা প্রিফেকচারে অবস্থিত কাদোকাওয়া কালচার মিউজিয়াম বই, শিল্প ও ইতিহাসকে এক ছাদের নিচে এনেছে। এর চতুর্থ তলায় থাকা লাইব্রেরির বিশাল বুকশেলফ, আলোকসজ্জা এবং ডিজিটাল ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা দেয়। বইপ্রেমীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি অনন্য গন্তব্য।
সিঙ্গাপুর সেন্ট্রাল পাবলিক লাইব্রেরি, সিঙ্গাপুর
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরি ভবনের নিচতলায় অবস্থিত সেন্ট্রাল পাবলিক লাইব্রেরি আধুনিক নকশা ও সৃজনশীল পরিবেশের জন্য পরিচিত। এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো শিশুদের জন্য তৈরি বায়োডাইভারসিটি লাইব্রেরি, যেখানে সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীরের আদলে সাজানো বিশাল স্থাপনা, নীলাভ পরিবেশ এবং রঙিন বুকশেলফ ছোট-বড় সবার নজর কেড়ে নেয়। প্রযুক্তিনির্ভর সুবিধা ও নান্দনিক নকশার কারণে এটি সিঙ্গাপুরের অন্যতম জনপ্রিয় গণগ্রন্থাগার।
ডেভিড সাসুন লাইব্রেরি অ্যান্ড রিডিং রুম, মুম্বাই, ভারত
মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ডেভিড সাসুন লাইব্রেরি অ্যান্ড রিডিং রুম উনিশ শতকের ভিক্টোরিয়ান গথিক স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত। সুউচ্চ খিলান, বার্মা টিক কাঠের ছাদ, হলুদ মালাড পাথরের দেয়াল এবং ঐতিহ্যবাহী নকশার মেঝে ভবনটিকে আলাদা সৌন্দর্য দিয়েছে। দীর্ঘ ইতিহাস ও সংরক্ষিত স্থাপত্যের কারণে এটি শুধু পাঠাগার হিসেবে নয়, মুম্বাইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাও।