ফারুক মঈনউদ্দীনের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে পেন বাংলাদেশের আলোচনা সভা

আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় পেন বাংলাদেশ আয়োজন করে কথাশিল্পী, অনুবাদক ও ভ্রমণলেখক ফারুক মঈনউদ্দীনের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনা সভা।

ধানমন্ডিতে পেন বাংলাদেশের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ড. সামসাদ মর্তূজা। তিনি ফারুক মঈনউদ্দীনের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

ফারুক মঈনউদ্দীনের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন পেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ড. সামসাদ মর্তূজা।
শুরুতে সঞ্চালক কথাসাহিত্যিক মুহাম্মদ মহিউদ্দিন পেন ইন্টারন্যাশনাল ও পেন বাংলাদেশের পরিচিতি এবং কার্যক্রম সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করেন। পরে ফারুক মঈনউদ্দীনের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেন পেন বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট কবি শামীম রেজা।

লোপা মমতাজ।
ফারুক মঈনউদ্দীনের ভ্রমণসাহিত্য নিয়ে আলোচনা করেন কবি লোপা মমতাজ। তিনি বলেন, ‘ফারুক মঈনউদ্দীনের ভ্রমণসাহিত্য পড়ে মনে হয়, তিনি পাঠকের জন্য চরিত্র তৈরি করেন। যাদের মধ্য দিয়ে তিনি লোকগাথা, বীরগাথা, জনসংস্কৃতি ইত্যাদি তুলে ধরেন। কখনও মনে হয়, এসব চরিত্র কি সত্য!’

তিনি আরও বলেন, ‘পাঠক যখন তার লেখা পড়তে থাকেন, তখন শুধু বর্ণনা খোঁজেন না, লেখার মধ্য দিয়ে অন্যকিছুর অনুসন্ধান করেন।’

ফুলের তোড়া তুলে দেন পেন বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট শামীম রেজা।
লোপা মমতাজ বলেন, ‘ফারুক মঈনউদ্দীন ভ্রমণগদ্যের মাধ্যমে এক সংস্কৃতি থেকে অন্য সংস্কৃতি, এক ভাষা থেকে অন্য ভাষার সংযোগ তৈরি করেন।’

অনুবাদক রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী ফারুক মঈনউদ্দীনের অনুবাদ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করে দেখেছি, দশটি অনুবাদগ্রন্থের মধ্যে তিনি যথেষ্ট নন-ফিকশন অনুবাদ করেছেন, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নন-ফিকশনের ধারা যত বহমান হবে, অনুবাদের ধারা তত সমৃদ্ধ হবে।’

রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী।
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী আরও বলেন, ‘ফারুক মঈনউদ্দীনের দৃষ্টিভঙ্গি ও চয়েজ অতুলনীয়। আমরা পেরুর লেখক বলতে মারিও ইয়োসাকে বুঝি। ইয়োসা একইসঙ্গে নোবেলজয়ী ও জনপ্রিয় লেখক। অথচ তিনি হুলিও র‌্যামন রিবেইরোর গল্প অনুবাদ করেছেন। তার কাজের এমন বহু নজির আছে।’

তিনি বলেন, ‘একজন অনুবাদক হিসেবে অনুবাদ করার যে জার্নি, তা আমি জানতে চাই। আশা করি, ফারুক মঈনউদ্দীন সেসব লিখবেন। তাহলে আমরা যারা অনুবাদ নিয়ে লেখাপড়া করি, আমাদের অনেক উপকার হবে।’

কথাসাহিত্যিক পারভেজ হোসেন বেশ কয়েকটি গল্পের বিষয় ও ঘটনা উল্লেখ করে ফারুক মঈনউদ্দীনের ছোটোগল্পের বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, ‘তার দীর্ঘ জীবনের নির্যাসটুকু দেখতে পাই ছোটোগল্পের মধ্যে। এখানে তিনি সবচেয়ে কম বলে মানুষের অন্তর্জগৎ উন্মোচন করেছেন।’

পারভেজ হোসেন।
পারভেজ হোসেন ফারুক মঈনউদ্দীনকে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ও হাসান আজিজুল হকের উত্তরসূরি দাবি করে বলেন, ‘প্রথাগত অর্থে গল্প বলতে যে কাহিনি বোঝায়, তা তিনি লেখেননি। তিনি ফর্মে ট্র্যাডিশনাল থেকেও প্রতীকের মাধ্যমে মানুষ ও তার পরিপ্রেক্ষিত ধরতে চেয়েছেন।’

প্রশ্নোত্তর পর্ব।
সমাপনী বক্তব্যে পেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ড. সামসাদ মর্তূজা বলেন, ‘আজকের সভাটি ঘরোয়া, কিন্তু অনেক মনোমুগ্ধকর। আমরা আলোচকদের মধ্য দিয়ে ফারুক মঈনউদ্দীনের জীবন ও সাহিত্য বুঝতে চেয়েছি। ছোটো ছোটো ঘটনাকে গল্পের মধ্য দিয়ে তার দেখার চোখ অসাধারণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন অনুবাদের ভেতর এআই নামে এক মনস্টার ঢুকে গেছে! কিন্তু এআই কি সাহিত্য যথাযথ অনুবাদ করতে পারছে? পারছে না। আমাদের অনুবাদচর্চা বাড়াতে হবে। পেন বাংলাদেশ সেই চেষ্টা করছে।’

ফারুক মঈনউদ্দীন।
প্রশ্নোত্তর পর্বে শ্রোতারা ফারুক মঈনউদ্দীনের ব্যক্তিজীবন ও লেখকজীবনের নানা অনুষঙ্গ নিয়ে প্রশ্ন ও মন্তব্য করেন। কেউ কেউ আলোচকদেরও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন।