নোবেলজয়ী অ্যান কারসনের সাক্ষাৎকার

এবছর সাহিত্যে নোবেল পেলেন অ্যান কারসন। তার বিখ্যাত বইগুলো হলো: ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড: আ নভেল ইন ভার্স’ (১৯৯৮), ‘দ্য বিউটি অব দ্য হাজবেন্ড: আ ফিকশনাল এসে ইন টুয়েন্টি নাইন ট্যাংগোজ’ (২০০২) এবং ‘ডিক্রিয়েশন: পোয়েট্রি, এসেজ, অপেরা’ (২০০৫)। নোবেল বাদে তার প্রাপ্ত পুরস্কার ও সম্মাননার মধ্যে রয়েছে ল্যানান অ্যাওয়ার্ড, পুশকার্ট প্রাইজ, গ্রিফিন ট্রাস্ট অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স ইন পোয়েট্রি, গুগেনহেইম ফেলোশিপ এবং ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ। তিনি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ক্রিয়েটিভ রাইটিং প্রোগ্রামে ‘ডিস্টিংগুইশড পোয়েট-ইন-রেসিডেন্স’ হিসেবে কর্মরত আছেন এবং সেখানে ক্লাসিকস বিভাগেও শিক্ষকতা করেন।  

ওয়েস্ট টেন্থ: লেখালেখি শুরু করতে আপনাকে কোন জিনিসটা উদ্বুদ্ধ করেছিল?

অ্যান কারসন: এটার ব্যাপারে আমি সুনির্দিষ্ট কোনো ‘শুরু’র কথা মনে করতে পারছি না। নিশ্চয়ই এর আগে কোনো সময় ছিল, কিন্তু আমার তা মনে পড়ে না।

ওয়েস্ট টেন্থ: কবিতা লেখা কি আবেগের নাকি বুদ্ধির একটা কাজ? নাকি এটা একেবারে ভিন্ন কিছু?

অ্যান কারসন: নিশ্চিতভাবেই এটা দুটোই। এমনকি শারীরিকও বটে।

ওয়েস্ট টেন্থ: এমন কোনো পরামর্শ কি আছে যেটা আপনি চেয়েছিলেন শুরুর দিকে আপনাকে কেউ দিক?

অ্যান কারসন: আমি পরামর্শ পছন্দ করি না, কখনোই করিনি। তবে আমার মনে হয় যদি জন কেজের সাথে পরিচয় থাকত, যদি তার মতো সাহসী হতে পারতাম: “আমরা এখন পর্যন্ত যা করেছি, তা আমাদের বর্তমান কাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে।”

ওয়েস্ট টেন্থ: আপনার কি মনে হয় যে ক্রিয়েটিভ আর্টস কোনোভাবে শেখানো সম্ভব, নাকি ক্রিয়েটিভ রাইটিং-এর ক্লাসগুলো আসলে সহজাত দক্ষতাকে আরও শানিত করার বিষয়?

অ্যান কারসন: ক্রিয়েটিভ রাইটিং-এর ক্লাসগুলোর মূল উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে আমি প্রায়ই চিন্তা করে দেখেছি। আমার মনে হয় এগুলো আসলে মানুষকে (মানুষের সবচেয়ে আনন্দদায়ক কাজগুলোর একটা) ‘একসাথে চিন্তা করা’র সুযোগ করে দেয়। আর যা শেখানো হয়, তা হচ্ছে আনন্দ। নিজের সত্তার সবচেয়ে কঠিন জায়গাটাতে কাজ করার মধ্যেও এক ধরনের আনন্দ আছে।

ওয়েস্ট টেন্থ: আপনি কি কখনো শিক্ষার্থী থাকাকালীন লেখাগুলোর নিয়ে ভাবেন? যদি ভাবেন, তবে বর্তমান লেখাগুলোর সাথে সেগুলোর সম্পর্ক কীভাবে দেখেন?

অ্যান কারসন: আমি কখনোই ক্রিয়েটিভ রাইটিং-এর শিক্ষার্থী ছিলাম না। আপনি কি আমার ক্লাসিকস (ক্লাসিক সাহিত্য ও ইতিহাস) বিষয়ক পুরোনো প্রবন্ধগুলোর কথা বলছেন? সেগুলোর সাথে বর্তমান কাজের খুব একটা সম্পর্ক নেই। মিল বলতে এটুকুই বলা যায় যে আমার গবেষণা ও অনুবাদের কাজে আমি এখনো সেই একই টেক্সট নিয়ে কাজ করছি।

ওয়েস্ট টেন্থ: একজন ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট হিসেবে আপনার কাজ কীভাবে আপনার কবিতাকে সমৃদ্ধ করে বা তার সাথে যুক্ত হয়?

অ্যান কারসন: লেখালেখির চেয়ে ছবি আঁকাটাই আমি বেশি পছন্দ করি, যদিও আঁকিয়ে হিসেবে আমি খুব একটা দক্ষ নই। ‘শর্ট টকস’ নামে আমি একবার একটা বই লিখেছিলাম। সেটা আসলে ছিল ক্যাপশনসহ কিছু ছবির সিরিজ। কিন্তু কেউ ছবিগুলো প্রকাশ করতে চাইনি, তাই আমি ছবিগুলো বাদ দিয়ে ক্যাপশনগুলোর কলেবর বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। এরপর আর ছবি বিক্রির চেষ্টা করিনি। আজকাল এই কাজগুলো পাশাপাশিই চলে, তবে এগুলো শক্তির দুটি ভিন্ন ধারা এবং বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করার দুটো আলাদা পদ্ধতি। 

ওয়েস্ট টেন্থ: আপনার রচনাসমগ্র নানা ধরনের আঙ্গিক বা রূপের ওপর বিস্তৃত বলে মনে হয়, যার মধ্যে কিছু একেবারে আপনার নিজস্ব। যেমন ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড: আ নভেল ইন ভার্স’ (১৯৯৮), ‘দ্য বিউটি অব দ্য হাজবেন্ড: আ ফিকশনাল এসে ইন টুয়েন্টি নাইন ট্যাংগোজ’ (২০০২) এবং ‘ডিক্রিয়েশন: পোয়েট্রি, এসেজ, অপেরা’ (২০০৫)। এক মিডিয়াম থেকে আরেক মিডিয়ামে যাওয়ার বিষয়টা আপনাকে কীভাবে উদ্বুদ্ধ করে?

অ্যান কারসন: সম্ভবত একঘেয়েমি। এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করে। তাছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মতো অনেক রূপ বা আঙ্গিক তো রয়েছেই।

ওয়েস্ট টেন্থ: একবিংশ শতাব্দীতে ‘কবিতা’র এই ধারাটি কীভাবে বিবর্তিত হচ্ছে বলে আপনি মনে করেন?

অ্যান কারসন: সত্যি বলতে এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। আমার মনে হয় আমাদের হাতের নাগালে যা আছে, আমরা সেটাই আঁকড়ে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাব। জলদস্যুরাই আসলে চায়ই বা কী।