ধুয়ে দাও
প্রশ্নোত্তর না পেয়ে যদি অশান্ত হয়ে ওঠে
তোমার মাথা
চঞ্চল স্বচ্ছ জল দিয়ে ধুয়ে নিও কঠিন আগুন
পাহাড় ও ঝরনার প্রতিবেশী গাছগুলো মনে রেখো
অন্যমনস্কতার ভেতর বয়ে যাওয়া নিঃশব্দ মর্মর
যাকে তুমি এত ভালোবাসো
সেও কোনো সান্ত্বনা জোগাবে না
মানুষের মর্মপীড়ার দিন ঋষিকল্প বৃক্ষ নির্বিকার
হাসে!
‘ভালোবাসা’ শব্দের মধ্যে যে পেয়েছে
অসীম লবণ তাকে তুমি ক্ষমা করো
লোকালয়ের শব্দপুঞ্জ যদি বিরক্ত করে
নৈশঃব্দ্যপ্রিয় তোমাকে
প্রশান্ত বৃষ্টির জলে ধুয়ে নিও তোমার বিহ্বল মন।
দম্পতি
রাত বাড়ে কিন্তু ওরা ঘুমাতে যায় না
রাত বাড়ে ওরা হাঁটে
এ ঘর থেকে ও ঘরে
ও ঘর থেকে বারান্দায়
বারান্দা থেকে আবার ঘরের অনেক ভেতরে
ওরা হেঁটে বেড়ায়
ঘুম যায় না!
গভীর অন্ধকার ডিমলাইটের অস্পষ্টতার সাথে
মিলেমিশে ঘন এক আবেগের জন্ম দেয়
দুজনের গরম নিশ্বাস পড়ে
এলোমেলো বুকের ওপর
নড়াচড়া খয়ে আসে
কথা থেমে যায়
ওরা ঘুম যায়!
আরণ্যক
গা-ছমছম করা জংগলের চোরা পথে
তোমার বুক করবে ঢিপঢিপ
হরিণঘাটার পানি লাল হবে বাঘ ও কুমিরের
দ্বৈরথে
তোমার গায়ে উঠবে শিমুলের কাটা অস্হায়ী
ভালোবাসার পাথরে চ্যাপ্টা হয়ে শুয়ে থাকা
সরীসৃপ গলা বাঁকিয়ে দেখবে
মালা হয়ে উড়ে যাওয়া পাখি পরিযায়ী!
উলটকম্বলের নিচ থেকে গলা বাড়াবে সজারু
সে বুঝবে না ঋতুবদলের রঙ রস আশা আলো
প্রেমিক নদীতীরে খুঁজবে না বোতাম মিশকালো
বড়জোর চাইতে পারে ছোট মাংস, একশিশি দারু।
অস্তিত্ব
আমার মাথার ভেতর জন্ম নিয়ে যে নদী
আস্তে আস্তে নেমে গেছে এঁকেবেঁকে গেছে
তাকে আমি দেখতে পাই পৃথিবীর সবখানে
পাহাড়ের রাস্তা দিয়ে নরম আলোয়
হেঁটে যাওয়ার সময় তাকে আমি পাই
আমার গোপন উচ্চাশার ভেতর
তাকে আমি অনুভব করি আধোস্বপ্নের অন্ধকারে
ছাইরঙ সন্ধ্যাবেলা আমি তার সাথে সাথে হাঁটি
ঝুলে পড়া কাঁটাতারের পাশে গুলিবিদ্ধ জোছনায়
মনে পড়ে
জোছনায় পড়ে আছে বেহালার ভাঙা ছড়
বালাজন নদীর তীরে, বালুর উপর!
ব্রিজের কাছে এসে উত্তেজনা বেড়ে গেছে
যাত্রাদলের গরিব নর্তকীর গালের ওপর
সকালবেলার কুয়াশার স্বর!
পিঠের উপর উচ্ছ্বাসে ভেঙে পড়ছে পাগল সমুদ্র
বেলাভূমিজুড়ে উড়ছে ছোট ছোট শাদা
প্রজাপতি
নষ্টঘড়ির মতো চুপ হয়ে আছে মহাকাল
বিশ্বাসের হাত ধরে চলেছে সন্দেহ!