সে শেরপুর।
১৭ এমোট এভিনিউয়ে এসে নম্র সুরে দরজায় নক করলো,
নকশালদের মতো ছদ্মবেশী, মুখে দাড়ি
অথবা দাড়িবিহীন
গায়ে জড়ানো জোছনা এবং কুয়াশা মাখানো বাংলাদেশের চাদর
চেনা-চেনা লাগছে, চেনা যাচ্ছে না, আবার যাচ্ছেও।
ভুলে যাওয়া গানের সুরের মতো মনে পড়ছে, পড়ছেও না।
একবার মনে হয় দূরসম্পর্কীয় আত্মীয়ের মতো
আবার অনাত্মীয় আংশিক পরিচিত
অথবা প্রথম দেখা কিংবা শেষ দেখা!
এক দিকে চার্চ, দুই দিকে বিয়ার স্টোর এবং এলসিবিও,
সামনে মসজিদ।
তারাবি, তাহাজ্জুদ শেষ করে
না-কি গলগল গলা ভিজিয়ে সে এসেছে, শেরপুর।
আত্মীয়তা আছে, সম্পর্ক জানা নেই। বিব্রত। সে কি ডাকবে!
ভাই না-কি বাবা না-কি স্যার; না নাম ধরে? সিদ্ধান্তহীনতায় স্থবির।
উত্তম পুরুষে বললো : আমাকে কী চেনা যাচ্ছে?
প্রাচীনকালে কামরূপা রাজ্যের অংশ ছিলাম—
আমি শেরপুর। শেরপুর থেকে এসেছি।
আমার গায়ে মিরগী জলের ঘ্রাণ, গজনি পাহাড়ের গন্ধ,
মান্দি মানুষের সরলতা, স্বর্ণলতা।
এভাবে ভুলে যাওয়া পাপ, ভুলে থাকা মহাপাপ!
আজ তোমার জন্মদিন। দেখতে এলাম
তোমার জন্য নিয়ে এসেছি নাড়িপোতা যুগনিমোড়ার মাটি,
আতুরঘরের আনন্দ; ফেলে আসা শৈশব।
নিয়ে এসেছি তোমার জন্মদিন,
নিয়ে এসেছি ফেলে আসা বার্থ সার্টিফিকেট।
আসো, বুকে আসো। তোমাকে জড়িয়ে ধরে আরও একটু কাঁদি।