আমাকে কেউ

মায়াটান

মায়াটান একাই বেড়াতে আসে, হাসে—
তোমার কি বড়সড় ঘর, চোখমুখ, গ্রীবাকাঁধ সঙ্গে নিয়েই
ভ্রমণবিলাসী হওয়া যাবে?

দীর্ঘায়ু মুঠো করে আলোয় উড়িয়ে দেয়া মনোবল
এখনো কি বোতলে নিবদ্ধ জারক, মেঘের রুপালি জলে
অবিকল ফিরে পাওয়া যাবে?

এক হাতে বাঁশি আর তৃষ্ণা দুধে ভাতে
বলো তো পরিচ্ছন্ন ঘুমে স্বপ্নেরা খেয়েপরে
ঘুম ভেঙে বৈকালিক ভ্রমণে আসে কুমার নদের তীরে?

আমগাছ দীঘিতে ঝাঁপিয়ে পড়ায়, পাকুড়পাতা-নাও আর
ডিঙি নায়ে মাছ ধরে ঘরে ফিরে জ্বরের প্রকোপে পড়া—
এসব পুরনো খেলায় মায়াটান উদাস পোশাক পরে
শুয়ে আছে ঘুমের কঙ্কাল খুঁড়ে

বৃষ্টি তো কাপালিক নয়, বললাম
আর আমাদের কপাল ভিজিয়ে দিয়ে নদের কিনারে জিরিয়ে নেবে বেলা
তোমারও কত খেলা
দেখে দেখে এই মায়া এই অভ্যাশবসতা যা গলগ্রহ ছাড়া অন্য কিছু নয়
অন্তত তোমার কাছে

যখন এসেই পড়েছে, মায়াটান
ও যাদুবাস্তবতা তোমার চোখের ওপর আঙুল বুলিয়ে যাক
আর ওপরে তাকাও, দেখো কী কী ছুঁতে চায় মন
আর পড়ে যেতে যেতে তোমার দেহের কী হাল হলো...
তার চে’ বরং এই বেলা আবার মায়ায় জড়ানো যাক
কথা রাখো


আমাকে কেউ

আমাকে কেউ ভাবছে না আজকাল
এমন কথা কেমন করে বলি—  

যারা ঢিল ছুড়ছে, ফুল ছিঁড়ছে, আবার
পাতার সৌন্দর্য দেখে ছুটে যাচ্ছে বনে, তাদের
এমন কথা কেমন করে বলি—  

তুমি গান ধরছ, ঘুম পাড়ছ
বৃষ্টির মর্মরে তোমার জেগে উঠছে বাড়ি

আমাকে কেউ ভাবছে না আজকাল
তোমার পরনে কলাপাতার শাড়ি


তোমার অস্তিত্ব

তোমার অস্তিত্ব থেকে আমি নিশ্চুপ ক’টি হলুদ পাতায়
জমা করে রাখি মুখের লাবণ্যরাশি। তুমি ঝরে যাচ্ছ
এই মরাকটালের দেশে ছাইরঙ মৃত প্রজাপতি—  

আমি হাত পাতি, আর নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকি—
ইলিশের ঘ্রাণ এসে লাগে নাকে  
দু’পাশে কালোজাম শাড়ি
মুঘল বাদশাহী হতে ঋণে পাওয়া উত্তরাধিকারের স্বর

এবার তাকিয়ে থাকি, আর তোমার সদ্য কেনা শৌখিন
কলসির পাড়, গাঢ়-ত্বক কোলবালিশের রোদ
সরে যাচ্ছে মৃদু গুঞ্জরণে
তোমার অস্তিত্ব বুঝি টলমান রেলব্রিজ হয়ে
উঠে পড়ছে মধ্য যমুনার বাঁকে
আর আমার ঘরে ফেরার পালা শেষ হবে বুঝি

তোমার সন্ধিগ্ধ প্রকাশ কবন্ধ মানুষের মতো
যদি অন্ধ হয়ে ফিরে চলে আসে
আর আসে ধান-ফসলের ঘ্রাণে আমার বিস্মৃত শৈশব
বিহ্বল জোনাকির চোখ, খুব রাত হেঁটে হেঁটে
মধ্যরাতে হাটুরের মুখর কোলাহল...

আমি আবার এসে প্রগাঢ় অন্ধকার দু’ভাগ করে
খুঁজে পাবো তোমার অস্তিত্বধারা

তবে ফুল হতে যে ভোরের সান্নিধ্যগাথা
সন্ধ্যার ক্লান্তির মতো নুয়ে এলো প্রায়ান্ধ রাতের শহরে
আমি তার দাঁড়াবার ঢং, চোখের বঙ্কিম রেখায়
না হয় জ্বালিয়ে দেবো একঝাঁক লাল মোমবাতি