প্রিয় দশ

চাতক

পুবাকাশে বড় একটা চাঁদ উঠেছে
চাঁদের মুকুরে তোমার ছায়া দেখা যাচ্ছে
এর চেয়েও স্পষ্ট করে যদি দেখতে চাও তোমার মুখ, ও মুসাফির
তাহলে ভাঙতে হবে তোমার পুরোনো আয়নাখানি।


কোমল ঋষভ

তোমার হৃদয়খানি আলগোছে ধরে থাকি
এই করপুটে, যেনো ফুলহার
একের পর এক পাপড়ি খুলে যাচ্ছে দ্যাখো
বেরিয়ে এলো বুঝি এ কোন অবাক অরূপ বন
ঐন্দ্রজালিক ঢেউ
পাখির কুহুতান ভরা বিনম্র সকাল
আর
নীল বিহগের সাথে সোনালি মাছের সেই গোপন সংসার।


মালাকার

কিছুই আর হলো না এ জীবনে
কাতর হয়েছে যখন দু-নয়ন
অতল কোনো নয়নে ডুব দিতে
তখনই তা হলো অন্ধ
বিস্মৃত বিবশ যখন সমগ্র সত্তার পারাবার
উন্মনা যক্ষের কাছে নিবেদিত এক বনফুল
তখনই নামলো ভয়াল করাল রাত্রি।
সজল বর্ষার কাছে নতজানু আমি
ভিক্ষা মাগি তোমার হাতখানি।


জীবনবৃক্ষ

প্রেম স্বর্ণলতার মতো দুলছে
                আমার জীবনবৃক্ষে।


মধ্যরাতের গান

সমস্ত রাতটাই ছিল একখণ্ড ধ্যান
যার রেশ এখনো কাটেনি
এমন চন্দ্রপ্রভা রাতে
এমন নিবিড় কোমল জ্যোৎস্নার প্লাবনস্নাত রাতে
সে বুঝি ছিল আমার পাশে
গহিন গান হয়ে।

রাতকে সে বানিয়েছিল এসরাজ
আর সমস্ত রাত স্তব্ধ হলো নিবিড় মূর্ছনায়।


বাগান

ট্রাকে করে যাচ্ছে বাগান, বেড়াতে
বিদ্যুতের তারে
ছোট্ট দুটি পাখি অবাক হয়ে দেখছে
ভাবছে তারাও সঙ্গী হবে কিনা।
দু-একটি মুকুল ছড়িয়ে পড়লো রাস্তায়,
                                      ধুলায়।


আশ্চর্য তুমি

তোমার ঠোঁটের স্পর্শে কেঁপে উঠলো
                                         একটি পাখি
গেয়ে উঠলো একটি সকাল।


নির্জনে

কান পেতে রাখো অরণ্যে
নির্জনে
অস্তিত্বের সমস্ত তন্ত্রীতে
ডাকছে শোনো বনডাহুক ঐ।


আমাদের বাড়ি

কোথায় সেই বাড়ি! কবে যে তার দেখা মিলবে
কে জানে
কে জানে কোন ঝড়ে
মুছে যায় মুহূর্তেই, সবুজ নদীর ঢেউ, বেলীগুচ্ছের ঝাড়
শিশুদের হাতে নেচে যাওয়া দুপুর
খুঁজে ফিরি আজ আনমনে
আমাদের বাড়ি, আমাদের সেই সোনালি বাড়ি।


ওমপ্রীতি

ঝলমলে রাত্রিকে আমি পেড়ে আনি
পাখির নরম রোয়া দিয়ে ঢেকে রাখি, ওম দেই
রমণীর দু-বুকের মাঝখানে যেইখানে আলোশিখা টিমটিম জ্বলে
দ্বীপান্তর ভেবে আমি সেইখানে নৌকা ভাসাই।