ঈশ্বরের নারী
প্রকৃতির ওপর রাগ করেছো?
ঈশ্বর তার নারীকে প্রশ্ন করলেন।
হ্যাঁ, আমি প্রকৃতির ওপর ক্ষুব্ধ।
আমি চাই না,
প্রকৃতি তোমার গোলাপি শিশ্ন হয়ে গুঁজে থাক আমার দুই পায়ের মধ্যে, কিংবা তোমার বেল্টের ফিতায় জিভের প্রয়োজন হলেই ভূগোলের মতো ঢেলে পড়ুক।
তোমার কাছে সৃষ্টির অর্থ কী?
ঈশ্বর তার নারীকে বেষ্টন করলেন।
বললেন, আগুন, সময়, আগুন—কোনটা নেবে?
পেছন দিকে হাঁটা
মা আমাদের পেছন দিকে হাঁটতে বারণ করতেন।
বলতেন, ওভাবে মৃতরা হাঁটে।
কোথা থেকে পেলেন তিনি এমন ধারণা?
হয়তো জীবনের কোনো ভুল অনুবাদ থেকে।
মৃতরা কি সত্যি পেছন দিকে হাঁটে?
না— ওরা হাঁটে আমাদের পেছনে পেছনে। ওদের ফুসফুস নেই, কাউকে ডাক দেবার শক্তিও নেই।
ওরা শুধু চায়, আমরা একবার পেছনে তাকাই।
ওদের অনেকেই প্রেমের শিকার, তাই।
ভালোবাসার ছোট্ট কষ্টভরা উচ্ছ্বাস
ভালো লাগে চোখ বন্ধ করে সারারাত তোমার সাথে কাটাতে।
কী সৌভাগ্য! নক্ষত্রের পথ ধরে ধরে তুমি আসছো।
আমি দীর্ঘ সফরে ঘুরে এসেছি
আমার মন ও হৃদয়ের প্রতিটি পথ।
তোমাকে দেখেছি
পথের পাশে হাঁটু গেড়ে বসে আছো আর তোমার ছোট্ট যন্ত্রপাতি দিয়ে কী যেন মেরামত করছো।
আমাকে একটা ধরিত্রী দেবে?
আমার ধরিত্রী ছিল, সেটা তুমি নিয়েছো সেই কবে।
গায়কপাখি
এপ্রিলের তুষারে মাথা দুলে জমে-যাওয়া ড্যাফোডিল। খাবারের গুদামের সামনে দীর্ঘ লাইন। দীপ্তিমান মৃত্যুরা চিরে যায় দিনটির বুক। হালের বয়স মাত্র চৌষট্টি। সকলের প্রত্যাশার বাইরে সবে সে গেয়েছে কাডিশ অন্য কারো জন্য। কেউ একজন অন্য এক সময় তাকে বলেছিল, এমন উন্মেষের সন্ধান পায় না এমনকি গায়কপাখিও।
ভোগবাদ
রূপের আগুন আমাকে আশাভস্ম করে।
কেন করে, ভাবি না— আমি শুধু পালিয়ে বাঁচতে চাই।
প্যারিসকে দেখলে মনে হয় আমার দুই পায়ে জড়িয়ে ধরি ওকে।
তোমার নৃত্য দেখে আমার ভেতর জেগে ওঠে এক হৃদয়হীন অসীমতা,
আমি তখন নিস্তব্ধ সমুদ্রে নিঃসঙ্গ নাবিক।
রাতজুড়ে আমার অন্তরে পীচফলের মতো গোল গোল কামনা ফোটে।
কিন্তু আমি আর কুড়াতে যাই না ঝরে-পড়া ফুল।