‘বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)’ আয়োজিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে জাহাঙীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিসান আহমেদের চলচ্চিত্র “LIVING DOLLS”.
গত ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে এক আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে তার হাতে এই পুরষ্কার তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্লাস্ট-এর অনারারি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ব্যারিস্টার সারা হোসেন।
ব্লাস্ট আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ছিলো ‘জীবনের গল্পে সিনেমা বানাই।’ এবং চলচ্চিত্রের বিষয় ছিলো— ‘সিদ্ধান্ত সম্মতির অধিকার। বাল্য বিয়ে নিরোধ। সহিংসতা। নির্যাতনের বিরুদ্ধে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সীমাবদ্ধতা।’
সারাদেশ থেকে সর্বমোট ১১৭ টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আলোকচিত্রশিল্পী মুনিরা মোরশেদ মুন্নী, নিজেরা করি এর সমন্বয়কারী খুশী কবির, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা শামীম আকতার, বাঙলা কমিউনিকেশনস লি.-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদিব রশিদ মামুন এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক প্রশান্ত ত্রিপুরা। বিচারকদের বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে সারাদেশ থেকে জমা পড়া ১১৭ টি চলচ্চিত্রের মধ্যে সেরা চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয় “LIVING DOLLS”.
পুরষ্কার হিসেবে রিসান আহমেদ ও তার দলের হাতে তুলে দেয়া হয় ট্রফি, সার্টিফিকেট এবং ৫০ হাজার টাকা।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘বাল্যবিয়ের নতুন আইন, সম্মতি ছাড়া বিয়ে, ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করতে বাধ্য করা, স্যোসাল মিডিয়ায় হয়রানি এই বিষয়গুলো মানুষের কাছে তুলে ধরতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন। নির্বাচিত সিনেমাগুলো আগামী বছর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখানো হবে।’
খুশি কবীর বলেন, ‘বাছাইকৃত সিনেমাগুলো মূলত নারী কোথায় আছে, তার অধিকার এবং অধিকারহীনতা নিয়ে।’
এছাড়াও আদিব রশিদ মামুন বলেন, ‘সমাজের এই অসঙ্গতিগুলি তুলে ধরতে এবং এর পাশাপাশি সমাধান করতে আমরা চেষ্টা করবো নিয়মিত এ ধরনের আয়োজনের সাথে থাকতে।’
পুরষ্কার বিজয়ের পর সিনেমার পরিচালক রিসান আহমেদ বলেন, ‘এটা আমার প্রথম পুরষ্কার। আমি অনেক বেশী খুশি। আমরা আমাদের চলচ্চিত্রে দেখাতে চেয়েছি— জীবনের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রই অনেকটা অবচেতনভাবেই পুরুষ নারীর চালকের আসনে থাকেন। কিন্তু এটা তো হওয়া উচিৎ না। আমরা আমাদের চলচ্চিত্রে এই প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি।’
উল্লেখ্য ‘LIVING DOLLS’ চলচ্চিত্রটি জাহাঙ্গীরনগর সিনে সোসাইটির তত্ত্বাবধানে নির্মিত। ‘চোখ মেলে দেখি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে জাহাঙ্গীরনগর সিনে সোসাইটি চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারী যাত্রা শুরু করে। সংগঠনটি ইতিমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক অসংগতি ও সমস্যা নিয়ে দশটির বেশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছে। বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে এসব চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আছেন প্রানীবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার এবং উপদেষ্টা হিসেবে আছেন বাংলা বিভাগের শিক্ষক কবি শামীম রেজা।
এ সম্পর্কে ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘আগামী দিনে সমাজের গুণগত পরিবর্তনের একমাত্র হাতিয়ার হবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে এ শিল্পে। তরুণদের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আমার দেশের অসংগতি দূর হবে।’
৫ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের এই নির্বাক চলচ্চিত্রে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজমুস সাকিব রুবেল, রেফাত হাসান সৈকত এবং আরমিন তৃষা।চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রহণ করেছেন মাজহারুল ইসলাম সৈকত। সহকারী পরিচালক হিসেবে ছিলেন সুমাইয়া ইসলাম কাজল।