অবরুদ্ধ সময়ের কবিতা

সর্বেপী সুখীনা সন্তু

noname

আমার আঙিনার নিবিড় এক কোণে

বহুদিন ধরে দাঁড়িয়ে আছে নিঃসঙ্গ, নিঃস্বার্থ

একটি দোলনচাঁপা গাছ; আজ সে সঙ্গোপনে

সযতনে ফুটিয়ে রেখেছে শুভ্রতম একটি ফুল।

 

এর আগেও সে বহুবার ঋতুমতী

হয়েছিল সন্দেহ নেই কিন্তু কী আশ্চর্য একবারও

চোখে পড়েনি এই স্বর্গীয় নিঃষ্পাপ জ্যোতি—

আজ সকালে যেন আমার নতুন জন্ম হলো।

 

বিষণ্নতার বিষবাষ্পে রুদ্ধশ্বাস বুকে

চাপ চাপ বেদনার যে দাগ এতদিন পুষে রেখেছি

নিমেষেই অদৃশ্য হলো তাও—চোখেমুখে

অলৌকিক আলোর দ্যুতি অনুভব করলাম আমি।

 

অস্থির সময়ের অবরুদ্ধ চৌকাঠে দাঁড়িয়ে

থাকতে থাকতে দু'পায়ে যখন শেকড় গজিয়ে গেছে

তখন অজান্তেই উদগ্রীব দু'হাত বাড়িয়ে

আলতো করে ছুঁয়ে দিলাম তার অপার সৌন্দর্য!

 

আজ আমি কোথাও যাব না

যখন ওঁত পেতে আছে অশনি অবিশ্বস্ত হাওয়ায়

সারাদিন আজ সার্বজনীন কল্যাণের বাণী

পাঠ করে যাব মৌনব্রতে; থিতু হয়ে নিজস্ব দাওয়ায়—

 

‘সর্বেপী সুখীনা সন্তু, সর্বে সন্তু নিরাময়’

জগতের সবকিছু সুখি হোক

                                  দূর হোক রোগ-শোক-ভয়!