করোনায় আমরা ভীত নই। বরং মোকাবেলা করছি গৃহে অন্তরীণ থেকে। এতে হয়ত কিছুটা বাড়তেও পারে মানসিক চাপ। তাই আসুন, খুলে দেই মনঘরের জানালা। নিজেকে চালিত করি সৃজনশীলতায়। আপনি নিয়মিত লিখছেন, বা এটাই হতে পারে আপনার প্রথম গল্প। লিখুন ফেসবুকে। চটজলদি ৫০০ শব্দের গল্প, বাংলা ট্রিবিউনের জন্য। একইসঙ্গে নমিনেট করুন আপনার পছন্দের আরও ১০ জন লেখককে। সেরা ১০ জন লেখক পাচ্ছেন কাগজ প্রকাশনের বই। আর অবশ্যই হ্যাশট্যাগ দিন #বাংলাট্রিবিউনসাহিত্য
nonameরাত দশটা নাগাদ গান শোনা হয়। এটা একটা বদঅভ্যাসও বটে। কানের মধ্যে হেডফোন গুঁজে গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়া। সেদিন ঘুম আসছিলো না মোটেও। মনের মধ্যে হাজার স্মৃতির আঁকিবুঁকি চলছিলো। স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে চোখের কোণে সশব্দে জল গড়িয়ে পড়ছে। কান্না স্বাভাবিক পর্যায় থেকে হেঁচকিতে রুপান্তরিত হলো। মনেরও কোনো কাণ্ডজ্ঞান নেই, যখন তখন নষ্টালজিকে ভুগতে আরম্ভ করে। নিজের ওপর রাগ হচ্ছিলো তিতিরের। সাহসী হওয়া আর সাহস দেখানোর মধ্যে ফারাক আছে। সেটা তিতির জানে। দেশের অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। যতোটা না করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। তার চেয়ে অভাব ঝাঁপিয়ে পড়ছে। অভাব এখন ভিক্ষুক থেকে মধ্যেবিত্ত প্রত্যকের দরজায় হানা দিচ্ছে। গ্রাম থেকে শহর সব জায়গায় নাইখাই আরম্ভ হয়ে গেছে। বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য প্রয়োজন। সরকার পর্যায় থেকে যেসব সহযোগিতা মানুষকে দেওয়া হচ্ছে, সেসব আবার মেম্বার চেয়ারম্যানরা স্টক করে রেখে দিচ্ছে। চাতাল কলের মালিক চাল গুদামজাত করছে। মুদি দোকানীও বাদ যাচ্ছে না। কাঁচা সবজি যা গুদামজাত করা যায় না, একমাত্র এখানেই মার খেয়ে যাচ্ছে চাষিরা। এর প্রভাব ও অতিসত্ত্বর চলে আসবে, কেননা এইসব চাষিরা লোকসান গুনতে গুনতে চাষাবাদে নিঃস্ব হবে। কারণ তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে টাকা থাকবে না। দেশের চেইন রোল ভেঙ্গে খান খান হবে। সম্প্রতি তিতির মানসিক স্বাস্থ্য যথেষ্ট খারাপ অবস্থায়। হঠাৎ করে ওর প্রেমিক সম্পর্ক রাখবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। প্রথমে বিষয়টি তিতির অতোটা সিরিয়াস হিসেবে নেয়নি কিন্তু যতই দিন যাচ্ছিলো তিতিরের অস্থিরতা বাড়ছিল। নিজের মধ্যে একপ্রকার অসহায় বোধ হচ্ছিল। ছেলেটি দুম করে বলে দিলো সম্পর্ক রাখবে না। এরপর ফেসবুক, ফোন সব বন্ধ করে দিলো। তিতির যতই বোঝাতে চেষ্টা করছে ছেলেটি ততই বেঁকে বসে। তিতির নিজেকেই গালিগালাজ করতে করতে ভাবছিল এই পরিণত বয়সে এমন একটা ভুল ঠিক মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি বিরক্তিকরও বটে। অসম্ভব সুন্দরী তিতির একজন হ্যাংলা পাতলা ছেলেটিকে এতটা ভালোবাসলো কীভাবে সেটা বোধে আসে না। আবার এমনও নয় যে ছেলেটি সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত কিংবা তিতিরের যোগ্য। কিন্তু তারপরও তিতির ফেঁসে গেলো। শুরুটা হয়েছিলো গতবছরের এপ্রিলের মাঝামাঝিতে। স্রেফ ফেসবুকে চ্যাটিং। বলতে গেলে একদম অপ্রত্যাশিতভাবে সম্পর্কে গড়িয়ে গেলো। যদিও তিতির বুঝতে পেরেছিলো ও একপ্রকার ফেঁসে গেছে। সম্পর্ক এভাবেই চলছিল। তিতিরও নিজ থেকে সম্পর্ক চালিয়ে নিতে চাচ্ছিলো না। তারপরও কেমন মায়া পড়ে গিয়েছিলো ছেলেটার ওপর। এই লকডাউনের সময়ও তিতির ভেবেছে অনেক কিছুই। একদিন ফোনে ও একদিন মেসেজে টাকা লাগবে কিনা জানতে চেয়েছিলো। আসলে একজন মানুষকে চটজলদি ভুলে যাওয়া একপ্রকার অসম্ভবই বটে। এরপরই করোনাভাইরাসের ভয়াবহ থাবায় বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষ বিপযস্থ।। ভলান্টিয়ার হিসেবে তিতির চলে এসেছে। করোনায় আক্রান্ত মানুষের চাইতে স্বাভাবিক রোগে আক্রান্ত বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক আমাশয় রোগ। ক্ষণে ক্ষণে পেটে কামড় দিয়ে পায়খানা হচ্ছে। তিতির বেশকিছু ফিলমেট জাতীয় ঔষধ খেয়েছে। পরিস্থিতি এমন সামান্য জ্বর বা সর্দি হলে এমনিতেই শ্বাসকষ্ট আরম্ভ হয়। এখন সময় অন্য স্রোতে বইছে। কে মুসলিম কে হিন্দু সম্প্রদায়ের, সব একই সরলরেখায় দাঁড়িয়ে আছে। মরে গেলে তড়িঘড়ি মাটিচাপা দিয়ে দিচ্ছে। যে মানুষ বেঁচে থাকলে এতো আদরের ভালোবাসার, আজ তার মৃত্যু হলে মুখ দেখাও বারণ। শুধু নিজে বেঁচে থাকার তাগিদে। তিতির অনুভব করে, মানুষ নিজের চাইতে কখনোই অন্যকে ভালোবাসে না এবং ভালোবাসতে পারে না। মানবতা আসলে কিছু শব্দ, যা দিয়ে কেবল নিজের ফায়দা হাসিল করে মানুষ।