করোনায় আমরা ভীত নই। বরং মোকাবেলা করছি গৃহে অন্তরীণ থেকে। এতে হয়ত কিছুটা বাড়তেও পারে মানসিক চাপ। তাই আসুন, খুলে দেই মনঘরের জানালা। নিজেকে চালিত করি সৃজনশীলতায়। আপনি নিয়মিত লিখছেন, বা এটাই হতে পারে আপনার প্রথম গল্প। লিখুন ফেসবুকে। চটজলদি ৫০০ শব্দের গল্প, বাংলা ট্রিবিউনের জন্য। একইসঙ্গে নমিনেট করুন আপনার পছন্দের আরও ১০ জন লেখককে। সেরা ১০ জন লেখক পাচ্ছেন কাগজ প্রকাশনের বই। আর অবশ্যই হ্যাশট্যাগ দিন #বাংলাট্রিবিউনসাহিত্য
এই একটা লাইন পাওয়া গিয়েছিল সুইসাইড নোট হিসেবে। আদৌ সেটা সুইসাইড নোট ছিল কিনা তাতে সন্দেহ থাকলেও সেদিন শহরের জানালাগুলো থেকে শত শত বাদুড় উড়ে এসে আকাশটাকে কালো করেছিল। এই কালোর মাঝেই হয়তো সে আলো খুঁজত। কোনো মিছিলে, কফিশপে, রুফটপ রেস্ট্রন্ট কিংবা কানাগলিতে। তারও এক স্বপ্ন ছিল কল্পনার আবেশে যা মুড়িয়ে থাকত। প্রথম দেখাটা, ডাকটা কেমন ছিল, সন্ধ্যার রিকশায় আঙুল মচকে দেয়া ডায়েরিতে বিছিন্নভাবে লেখা থাকলেও সেটা কখনো অতীত হতে পারেনি তা বোঝাই যায়। ময়নাতদন্তের ভুয়া রিপোর্টে দূরে ট্রেনের হুইসেলের শব্দ মিশে যায় দখিন হাওয়ায়। একদিন সাদা টি-শার্টে লিপস্টিকের দাগ চট্টেশ্বরীতে, তারপর বিচ্ছিন্ন কিছু লাইন কাটাকুটিতে বোঝার জো নেই। কবিতা বা ঘটনা লেখার আড়ালে ক্লু খোঁজার ব্যর্থ প্রচেষ্টা। টেবিলে যত্নেই সাজানো আছে ডুগডুগির পাশে মন্দিরা, জংধরা। ডায়েরিতে লেখা ছাড়াও এলোমেলো স্কেচ। ঠিক ততটা বিমূর্ত না হলেও বোঝার উপায় নেই। হাতের ওপর হাত, বুকের একপাশে প্রজাপতি আরেক পাশে শূন্যতায় ভরা। ডানা ঝাপটানো একটা পাখির উড়বার প্রচণ্ড সাধ। কী এমন ভাবত সে বা তাকে যেসব কিছু ভাবাত সেখানে আরেকজনের অস্তিত্ব টের পাওয়া গেলেও তা ছিল কেবল ছায়া। এ ছায়াটা কখনো অবচেতনে আবার কখনো খুব কাছের, যাকে স্পর্শ করা যেত বাস্তবে সকল অনুভূতিতে তা খুবই স্পষ্ট। এরকমই স্পষ্ট যেখানে মরে গিয়ে আরেকবার জীবন পাবার আকুতি। এই আকুতি ডায়েরির প্রতিটি আঁচড়ে। অদ্ভুতভাবেই এসব আকুতি রাতে, প্রায় মধ্যরাতেই। এই প্রমাণটা কেবল রেখে গেছে। দিনের আলোকে ঘিরে তেমন কিছু নেই বললেই চলে। অনেকভাবেই স্বেচ্ছামৃত্যুর স্বাদ নেয়া যায় কিংবা না মরেও মৃত্যু হচ্ছে কত শত মানুষের। মাঝেমধ্যে জীবিত লাশের কাছ থেকে রহস্য উদঘাটন কঠিন হয়ে পড়ে মৃত লাশের চেয়ে। এরকম একের পর এক লাশের নানা ধরনের বোবাকান্নাটা ধরতে পারলেও দায়িত্বের কারণে চেপে যেতে হয়। বাস্তবে এর কোনো মূল্যই নেই সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ না থাকলে। ফেলে দিতে হয় টিস্যুর মতো করেই। গতানুগতিকভাবেই একটা রিপোর্ট জমা দিয়ে দিই। তবে এটা স্বীকার না করেই পারছি না শেষের লাইনটায় কেমন যেন আবেগতাড়িত হয়ে গেলাম। যা আমাদের ডিউটির মধ্যে পড়েই না এবং এই লাইনটা আমাকে বহুদিন ভোগাবে। ওখানে লেখা ছিল, ‘অভিমানের ভালো কোনো ইংরেজি শব্দ হয় না!’