জানা যায়, গত রবিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের ৪র্থ তলা থেকে পরে গুরুতর আহত হয় এই শিক্ষার্থী পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়। রাতে তার পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এসে গতকাল সোমবার দুপুরে লাশ ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেয় শিক্ষার্থী পিতা বর্তমান ইউপি সদস্য চলাত্রু মারমা।
মেডিক্যালে উপস্থিত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী তারেক মাহমুদ সঙ্গে কথা বলে জানা যায় উকরাকে হাসপাতালে নেয়ার পর থেকে কিছুক্ষণ পরপরই চিৎকার করে বলছিল আমাকে মেরে ফেল, আমাকে মেরে ফেল।
কর্তব্যরত ডাক্তার মতিউর রহমান বলেন তার শরীরে আভ্যন্তরীন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়া অনেক উঁচু থেকে পড়ার কারণে তার শরীরের অনেক অংশই থেতলে গিয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায় উকরা সিং মারমা বিভিন্ন সময়ই হতাশাই ভুগতেন। অর্থনীতি বিভাগের পড়াশোনা করলেও বিভিন্ন সময়ই প্রয়োজন ছাড়াই কলা ভবনে যাতায়াত ছিল।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রক্টর জাগিদুল কবীরকে আহবায়ক ও সহকারী প্রক্টর সোহেল রানাকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. জাহিদুল কবীর বলেন, একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে আমার বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। মৃত্যুর মূল কারণ উদঘাটন করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা রিপোর্ট পেশ করব।
ত্রিশাল থানা অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান জানান, লাশ ময়নাতদন্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কোন মামলা নেওয়া হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উকরা সিং মারমমা মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম, রেজিষ্টার, প্রক্টর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন, ত্রিশাল সার্কেল এএসপি আল আমিন সহ উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
/এফএএন/