হলুদ, ধান ও দূর্বা দিয়ে কনেপক্ষ বরপক্ষকে বরণ করে নিল। চলল আশীর্বাদ আদান-প্রদান। মন্ত্র পাঠের আগে অভিভাবকরা কথা দিলেন, আসছে আষাঢ়ে তাদের বিয়ে হবে।
তবে সেটি কোন মানুষের বিয়ে নয়। ব্যাঙের বিয়ে। খরা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টির প্রত্যাশায় কলা ও মানিবকী অনুষদ চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এই ‘ব্যাঙের পানচিনি’র আয়োজন করেছিল। অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন এই আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার।
পানচিনি অনুষ্ঠান মূলত বিয়ের অঙ্গীকার প্রদান, আশীর্বাদ আদান-প্রদান এবং বর-কনের মধ্যে সম্প্রীতি বাড়ানোর আয়োজন।
ব্যাঙের এই পানচিনিতে নতুন কলা ভবনের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সেজেছিলেন কনেপক্ষের সাজে। আর পুরাতন কলা ভবন বরপক্ষ। বাঁশ আর রঙিন কাগজ দিয়ে বানানো হয়েছিল ব্যাঙ-যুগলের বিশাল দুটি প্রতিকৃতি। গতরাতেই কনেপক্ষ বরপক্ষের বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে গিয়ে আলাপটা সেরে এসেছিলো।
সকাল থেকেই উভয়পক্ষের বাড়িতে চলছিল সেই প্রস্তুতি। বিকাল পাঁচটা ২০ মিনিটে নেচে-গেয়ে বরপক্ষ হাজির হয় শহীদ মিনার চত্বরে। কনেপক্ষ হুই-হুল্লোড় করে ‘গেট ধরলে’ চলে মধুর দর-কষাকষি। অবশেষে বরের এক অভিভাবক একশ টাকা দিয়ে পার পেয়ে যান। এরপর জমে ওঠে প্রীতি কথার লড়াই। কারও হার না মানা অবস্থায় মঞ্চে পাশাপাশি বসার সুযোগ হয় হবু বর-কনের।
এরপর প্রধান অতিথি কথা সাহিত্যিক আখতার হোসেন পানচিনির উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাঙ জীব জগতের বৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা পালন করে। ক্ষতিকর পোকা-মাকড় খেয়ে ফসলের উপকার করে। ছোটবেলায় বৃষ্টির জন্য আমরা ব্যাঙের বিয়ে দিতাম। এসব সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখা উচিৎ।’
গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন কনে পক্ষের লোকেরা। মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে পানচিনির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। আগতদের মুঠো ভরে দেওয়া হয় মিষ্টান্ন। এরপর বর-কনেকে বরের বাড়ি পুরাতন কলা ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যায় ব্যাঙ-যুগলকে ভেলায় করে ভাসিয়ে দেওয়া হয় পাশের জলাশয়ে।
তাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছিল, ‘সরোবরে শুয়ে শুয়ে দুই পূর্ণিমা ও দুই অমবস্যা উপভোগ করো। তারপরেই আসবে তোমাদের মিলনতিথি। আশা করি এ সুখস্বপ্নে বিভোর হয়ে আমাদের ওপর আর রাগ দেখাবে না। আগের মতো বন্ধু ভেবে বৃষ্টি ঝড়াবে।’
/এফএএন/