উত্তর শেখা লেখাপড়া নয় : অধ্যাপক জাফর ইকবাল

SUST Photo (5)শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, শিক্ষার্থীরা গাইড বই থেকে সাধারণত উত্তর শিখে থাকে। যেটা আসলে লেখাপড়া না। সাধারণত গাইড বইয়ে প্রশ্ন পাওয়া যায় না। প্রশ্ন পাওয়া গেলে আমরা কিছুই বলতাম না। গাইড বইয়ে আসলে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। কাজেই একটা ছেলে বা মেয়ে গাইড বই থেকে একটি পার্টিকুলার প্রশ্নের উত্তরটা শেখে। যেটা আসলে কোন লেখাপড়া নয়। তবে গাইড বইয়ে যদি কেবল প্রশ্ন থাকতো তাহলে সেটা মেনে নেওয়া যেত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রবিবার সন্ধ্যায় শাবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এক সৃজনশীল ডাটাবেস প্রকল্পের আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, আমাদের দেশে যখন সৃজনশীল পদ্ধতিতে পড়াশোনা শুরু হলো। তখন আমাদের শিক্ষকরা সুন্দরভাবে সৃজনশীল প্রশ্ন করতে পারছেন না। আমরা দেখে খু্বই ভয় পেলাম, আতংকিত হলাম। যখন দেখলাম যে পাবলিক পরীক্ষাতে গাইড বই থেকে প্রশ্ন তুলে দেওয়া হয়েছে। তখন শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বই না পড়ে গাইড বই পড়া শুরু করেছে। এটা একটা ভয়ংকর বিপদের কথা, আতংকের কথা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ প্রজেক্টের কারণে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই পড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি আমরা এটা থামাতে যাই তাহলে আমাদের সুন্দর প্রশ্ন ও ছেলেমেয়ের পরীক্ষায় সেটি ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আর তারই প্রেক্ষিতে সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্ন ডাটাবেজের জন্য শিখনডটঅর্গ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ডাটাবেজে সুন্দর সুন্দর প্রশ্ন থাকবে। যেটা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

শিক্ষকরা কিছুটা অলসতো হবেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা কিন্তু আসলেই কিছুটা অলস হয়ে আছেন। কারণ এখনই শিক্ষকরা প্রশ্ন করেন না। স্কুলগুলো পরীক্ষার আগে স্থানীয় কিছু জায়গা থেকে প্রশ্নগুলো কিনে আনে। কাজেই আমরা তাদের কাজটাকে সহজ করে দিচ্ছি। পরবর্তীতে যেসব শিক্ষকরা আসবেন তারা আগ্রহ নিয়েই প্রশ্ন করবেন। আসলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অলস করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, তাদেরকে সাহায্য করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

উল্লেখ্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য সৃজনশীল প্রশ্ন ডাটাবেজ প্রকল্পটি উদ্ভাবন করেন শাবির সাবেক শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ সিলেটের সহকারী অধ্যাপক মানস কান্তি বিশ্বাস। এ প্রকল্পে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।

/এফএএন/