শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে নোবিপ্রবিতে অবস্থান ধর্মঘট

20170605_112037পরীক্ষার হলে উত্তরপত্র জমা না দিয়ে কেন্দ্রের বাইরে নিয়ে যাওয়ার কারণে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফার্মেসি বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের এক শিক্ষার্থীকে ৩ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (৫ জুন) একই বিভাগের সব শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে বিভাগের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী আইরিন আক্তার ২১ মে (রবিবার) বিকেল বেলার পরীক্ষার উত্তরপত্র পরীক্ষার হলে জমা না দিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রের বাইরে নিয়ে যায়। এ কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘ভুলক্রমে আইরিন প্রশ্নের সঙ্গে উত্তরপত্র ব্যাগে করে বাসার উদ্দেশ্যে চলে যায়। পরে পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের জানালে তারা উত্তরপত্র জমা দিয়ে এ ব্যাপারে কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করে। এ সময় শিক্ষাকরা এ ব্যাপারে পরবর্তীতে কোনও সমস্যা হবে না বলেও আইরিনকে আশ্বস্ত করেন। তাদের পরামর্শ অনুসারে আইরিন উত্তরপত্র জমা দিয়ে পরবর্তীতে ২৫ তারিখের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কিন্ত ৩১ তারিখের পরীক্ষা দিতে এসে দেখেন তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মিথ্যা আশ্বাস না দিয়ে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা আগেই কেন শাস্তির কথাটি বলেননি।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী আইরিন আক্তার জানান, ২৯ মে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হলেও সাধারণত এর আগে যে কোনও ব্যাপারে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্ত তিনি কারণ দর্শানোর নোটিশ পান ৩১ মে। আর ওই নোটিশে ৪ জুনের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর লিখিত জবাব দিতে বলা হয়। তিনি আরও বলেন,‘আমার লিখিত বক্তব্য ছাড়াই আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাও আগে বহিষ্কার করে পরে আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।   

উপাচার্য ড. এম অহিদুজ্জামান বলেন, ‘পরীক্ষায় অসদুপায়ের ক্ষেত্রে বরাবরই আমি কঠোর। তাৎক্ষণিকভাবে আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে একটি শিক্ষার্থী কীভাবে শিক্ষকদের অগোচরে কেন্দ্র থেকে উত্তরপত্র বাইরে নিয়ে যায় সে বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। তারপর শাস্তি পূনর্বিবেচনা করা হবে।’

/এমডিপি/