মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জাবির ২ শিক্ষার্থীর আমরণ অনশন

ju news 15.07.17উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন দুই শিক্ষার্থী।

শনিবার দুপুর দুইটায় পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমে অনশন শুরু করেন ইংরেজি বিভাগের ৪২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সরদার জাহিদুল ইসলাম। এরপর বিকাল চারটার দিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী পূজা বিশ্বাস তার সঙ্গে যোগ দেন।

সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা শহীদ মিনারে অবস্থান করছিলেন। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও সেখানে রয়েছেন। 

মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ’ ও ‘প্রতিবাদের নাম জাহাঙ্গীরনগর’ এ দুটি ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে ওই দুই শিক্ষার্থী ব্যক্তিগতভাবে আমরণ অনশন পালন করছেন বলে জানিয়েছেন। তারা শহীদ মিনারে চাদর বিছিয়ে বই পড়ে ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সময় পার করছেন। সেখান থেকে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে লিফলেটও বিতরণ করতে দেখা গেছে তাদেরকে।     

সরদার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সামনে বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষা কিন্তু প্রস্তুতি নিতে পারছি না। প্রতিদিন আন্দোলন করা সম্ভব নয়। উপাচার্য এখানে এসে মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি না দেওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবো।’

পূজা বিশ্বাস বলেন, ‘বাড়িতে পুলিশ গিয়ে আমাকে সন্ত্রাসী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে। গ্রামের মানুষ বিষয়টি সহজভাবে নিতে পারছেন না। মামলার কারণে কোনও জায়গায় চাকরির আবেদনও করতে পারছি না। স্নাতকোত্তর পরীক্ষা ও চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছি না। মামলা প্রত্যাহার করতেই হবে।’

প্রসঙ্গত, সড়ক দূর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে গত ২৭ মে সড়ক অবরোধকালে পুলিশী হামলার জেরে উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর করে শিক্ষার্থীরা। এসময় কয়েকজন শিক্ষক লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ উঠে। পরে ৩১ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা অন্তত ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই রাতেই ১০ ছাত্রীসহ ৪২ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন বিকালে জামিনে মুক্তি পান তারা।  

/এফএএন/