সম্প্রতি সরজমিনে দেখা যায়, জবির টিএসসিতে প্লেটে করে লুচি ডাল বিক্রি করা হচ্ছে। লুচির দোকানে প্লেটগুলো ধোবার মতো পানিও রাখেননি। প্লেটগুলো পর্যাপ্ত পানিতে ধোয়ার কথা থাকলেও নূন্যতম পানিতে ও ধোয়া হয় না। নোংরা প্লেটগুলো শুধু কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করে বিক্রি করা হচ্ছে। আবার কিছু সময় এক বালতি পানি দিয়ে সমস্ত প্লেটগুলো সারা দিন ধোয়া হচ্ছে।
লুচি তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকর পাম-ওয়েল। এসব খাবার যে শুধু জবির শিক্ষার্থীরাই খাচ্ছে তা নয়। পার্শ্ববর্তী হিড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ঢাকা কলিজিয়েট স্কুলের ছোট ছোট শিশুরা এ খাবার গ্রহণ করছে।
এ বিষয়ে দোকানদার নূর নবীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই পানি পুরোপুরি পরিচ্ছন্ন। এর পর তাকে পানি পরিবর্তন করতে বলা হলেও সে নির্বিকার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকেন।
সেখানে অবস্থানরত জবির ১২ ব্যাচের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র আসাদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের খাবার নিম্নমানের হওয়ায় আমাদের বাহিরে এসে খেতে হয়। কিন্তু এখানেও স্বস্তি নেই, তবুও বাধ্য হয়েই খেতে হয়।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন ব্যাবস্থা না থাকায় ক্যাম্পাসে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত থাকতে হয়। যার কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই সব অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার খেতে হচ্ছে। যার ফলে অনেক শিক্ষার্থী প্রায়শ না রকম পেটের অসুখসহ দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় ভুগছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে জবি প্রশাসনের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা মিটিংয়ে জবির ক্যান্টিন নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করি খুব দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। আর সেটা হলেই শিক্ষার্থীদেরকে আর বাইরের নোংরা খাবার খেতে হবে না।
এদিকে নোংরা খাবারের প্রসঙ্গে ছাত্র কল্যাণ পরিচালক শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, টিএসসির জায়গাটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের না। তাই এটা বাইরে হওয়ায় আমার কিছু করার নেই। ছাত্ররা কোথায় খাবে বা কি খাবে এটা আমার দেখার বিষয় নয়। তবে যদি এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে হতো তাহলে আমি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম।