অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের অভিযোগ, জোর করেই ২০০ থেকে ৪০০ টাকা আদায় করছেন এজেন্টরা।
নোয়াখালী থেকে জবির ‘এ’ ইউনিটে ভর্তি হতে আসা জান্নাতুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি নাট্যকলা বিভাগে ভর্তি হতে আসছি। আমি জানতাম এখানে ভর্তি হতে ১২ হাজার ৪০০ টাকা লাগবে। কিন্তু শিওর ক্যাশে টাকা জমা দিতে এলে বাড়তি আরও ৪০০ টাকা দাবি করেন এজেন্টরা। তখন অনেকটা দরদাম করে অতিরিক্ত ২০০ টাকা দিয়ে ভর্তি হতে হচ্ছে আমাদের। আমরা এই মুহূর্তে নিরুপায়, কারণ ভর্তি তো হতেই হবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক ভর্তিচ্ছু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘টাকা নিয়েও যে সময়মত কাজ হচ্ছে তাও না। টাকা জমা নিয়ে কাগজ দিচ্ছে আর বলছে সার্ভার জ্যাম, পরে দেখা করেন। তাহলে অনলাইনের কি থাকলো?’
জবি টিএসসি সংলগ্ন ফুজি গলির ফটোকপি দোকানদার ও শিওর ক্যাশ এজেন্ট সোহেল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে প্রথমে চার্জ হিসেবে এমন কিছু টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান। এর কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন, ‘আমরা ২০০ থেকে ৪০০ টাকা নিচ্ছি। কারণ আমাদের নিজেদের অনেক টাকা এখানে কাজে লাগাচ্ছি।’
ব্যাংক থেকে চার্জ নেওয়ার এমন কোনও নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা ব্যাংকের কোনও নিয়ম না। আমরা নিজেদের জন্যই নিচ্ছি। আপনার সমস্যা হলে আপনি অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।’
রুপালী ব্যাংকের ‘শিওর ক্যাশ’ এর প্রজেক্ট ম্যানেজার সালাউদ্দীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের সিস্টেম হচ্ছে, যদি কোনও এজেন্ট থেকে পেমেন্ট করা হয় তাহলে সর্বনিম্ন ৪ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা পর্যন্ত চার্জ নেওয়া হয়। আবার যদি পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট থেকে পেমেন্ট করা হয় তাহলে শতকরা ১ টাকা হারে চার্জ কেটে নেওয়া হয়।’
অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রসঙ্গে হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমরা খুব কঠোর পদক্ষেপ নেই। কোথায় কে এমন অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে আমরা জানতে পারলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করি। ঢাকা কলেজ ও ইডেন কলেজসহ অনেক জায়গায় আমাদের কাজ চলছে।’
প্রসঙ্গত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় উর্ত্তীণ শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। এ, বি ও ই ইউনিটে ১ম মেধাক্রমে মনোনয়নপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে ২৬ নভেম্বর থেকে ২৯ নভেম্বর ভর্তি ফি জমা দান এবং ২৬ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রয়োজনীয় সনদপত্র জমা দিতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।