শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবিতে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ নোবিপ্রবিতে

নোবিপ্রবি-১১নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবির মুখে ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সোমবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় শিক্ষার্থীরা এসব দাবি তুলে ক্লাস বর্জন করেন। ভর্তি কার্যক্রম যেখানে চলছে সেই হাজী ইদ্রিস অডিটোরিয়ামের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন। এছাড়া সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মুশফিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,‘এ ব্যাপারে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এক মাস সময় চেয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের সেই সময় দেয়নি।’ 

নোবি-৩৩৩আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, যেখানে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি কম, সেখানে নোবিপ্রবিতে প্রতি বছরই ভর্তি ফি বাড়ছে। এতে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারছে না। ভর্তি হতে চান এমন অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। শিক্ষার্থীরা আরও জানান, দীর্ঘ দিন থেকে তারা ভর্তি ফি কমানোসহ আট দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন সময় আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন না করে উল্টো শিক্ষার্থীদের ওপর নানাভাবে বাড়তি ব্যয় চাপিয়ে দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

এদিকে সোমবার দুপুর ১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মুশফিকুর রহমান ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. ইউসুফ মিয়া তাদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে দাবিসমূহ বাস্তবায়নে প্রশাসনিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে আগামী এক মাসের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দেন। কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এমন মৌখিক প্রতিশ্রুতি প্রত্যাখান করে এবিষয়ে একটি লিখিত প্রস্তাবনা দেওয়ার দাবি জানান। 

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো, ভর্তি ফি ২৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫ হাজার টাকা করতে হবে, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ফি ফেরত দিতে হবে, বিভাগীয় ট্রান্সক্রিপ্ট তোলার ফি ২০ টাকা এবং মূল সনদপত্র ৫০ টাকা করতে হবে, ব্যাকলগের বর্ধিত ফি প্রত্যাহার করতে হবে এবং তা ৩০০ টাকা করতে হবে এবং ইম্প্রুভমেন্টের সর্বনিম্ন জিপিএ ৩.০০ করতে হবে,ওয়ান স্টপ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করতে হবে, শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক যেকোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং হলের খাদ্যে ভর্তুকি দিতে হবে এবং পুরো ক্যাম্পাসে নিরবিচ্ছিন্ন ওয়াই-ফাই চালু করতে হবে।

ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।