বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার দফতর সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অগ্রিম ৩০০ টাকা করে পরিবহন ফি আদায় করা হয়। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বাস রয়েছে মাত্র ১৫টি। এর মধ্যে বিআরটিসির দ্বিতল বাস রয়েছে ১২টা আর একতলা বাস ৩টি। এই বাসগুলোর ধারণক্ষমতা রয়েছে প্রায় তিন হাজার। আর বাকি শিক্ষার্থীর জন্য নেই কোনও পরিবহন ব্যবস্থা। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি শিক্ষার্থী যাতায়াত করছেন। অন্যদিকে মাত্র সাতটি বাস রয়েছে শিক্ষকদের যাতায়াতের জন্য। আর সিনিয়র শিক্ষকদের জন্য রয়েছে ৬টি মাইক্রোবাস। অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র একটি।
জবি বাংলা বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী সানজানা সাদিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিমাণ নারী শিক্ষার্থী বাসে যাতায়াত করে তার তুলনায় বসার জায়গা কম। তাই বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। আর বাসে পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা না থাকায় গরমের সময় বেশি কষ্ট করতে হয়।’
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী রিজবী খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রয়োজনের তুলনায় বাসের সংখ্যা খুবই কম হওয়ায় অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে আমাদের। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিনিয়তই দরজায় ঝুলে যাতায়াত করি। এতে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে আমাদের।’
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী হৃদয় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাসে মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে থাকারও কোনও জায়গা থাকে না।’
জবি সহকারী প্রক্টর মো. শাহীন মোল্লা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘এ সমস্যা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই। এ সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য জবি প্রশাসন চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই ছাত্রছাত্রীদের জন্য নতুন ৩টি দ্বিতল বাসের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী বছরেই সেগুলো ব্যবহার করা যাবে বলে আমরা আশা করছি। আর শিক্ষকদের জন্য নতুন একটি বাসের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে এবং আরও দুটির কাজ চলছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার প্রকৌশলী মো.ওহিদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পরিবহন সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের নানা রকম দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে। আমরা এ সমস্যার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি। আগামী বছর নতুন অনেকগুলো বাস পরিবহনের জন্য যোগ হবে তাতে কিছুটা হলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমে যাবে।’