অবশেষে চাকরি প্রত্যাশী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের তোপের মুখে শিক্ষক নিয়োগ থেকে পিছু হটলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ৫টি নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডের সভা অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করেছে প্রশাসন। সোমবার (৭ মে) রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস.এম আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ৭ মে তারিখের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রভাষক পদের, ১১ মে আই সি টি সেলের কম্পিউটার প্রোগ্রামার/ডাটাবেজ প্রোগ্রামার, সহকারী কম্পিউটার প্রোগ্রামার/সহকারী ডাটাবেজ প্রোগ্রামার ও সহকারী নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার/সহকারী হার্ডওয়ার ইঞ্জিনিয়ার পদের, ১২ই মে ফার্মেসি বিভাগের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদের, ১৩ই মে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদের এবং ১৪ই মে এনভাইরনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফি বিভাগের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদের নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডের সভা অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হলো।
নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডের পরিবর্তিত তারিখ ও সময় পরবর্তীতে জানানো হবে বলে ঐ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়।
এদিকে সোমবার (৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে নয়টা থেকেই চাকরির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে চাকরি প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা। এ সময় ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মী আনিছুজ্জামান লিটন, কাশেম, মিজানুর রহমান টিটু, শিমুল, খায়ের, মাহবুব এবং শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিনের কর্মী সজল, রিজভী, মোস্তফাসহ শতাধিক নেতাকর্মী প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন ও সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম এর সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে বৈঠকে বসলেও কোনও সমঝোতা না হওয়ায় শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করতে বাধ্য হয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কোনও প্রকার চাপ দেওয়া হয়নি। বরং চাকরি প্রত্যাশীদের বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে বলা হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ও ভবিষ্যতে যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও অস্থিতিশীল বা নাজুক পরিবেশের সৃষ্টি না হয় এজন্য শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চাকরি প্রত্যাশীদের চাকরি প্রদানের কোনও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। আমরা শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অধিক মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ দিতে চাই। খুব শীঘ্রই পরবর্তী বোর্ডের তারিখ জানানো হবে।’
প্রসঙ্গত, ৬ এপ্রিল চাকরির দাবিতে দুই দফায় প্রধান ফটক অবরোধ করে ছাত্রলীগের চাকরি প্রত্যাশী সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা। পরে প্রক্টরিয়াল বডি এবং ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম আন্দোলনকারীদের উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনায় বসার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করে তারা।