ঢাবিতে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) প্রফেসর ড. নাসরীন আহমদ। আজ শনিবার (১৪ অক্টোবর) ‘মেন্টাল হেলথ অব ইয়ং পিপুল ইন বাংলাদেশ: ইন্টারভেনশন স্ট্র্যাটেজিজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন তিনি।

E_IMG_8068
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্ক মাস্টার্স প্রোগ্রাম এ সেমিনারের আয়োজন করে। ড. নাসরীন আহমদ বলেন, ‘আগামীদিনের পৃথিবী হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্যের পৃথিবী, আর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে পরিবর্তনশীল বিশ্বে তরুণরাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। তাই তাদের বিষয়ে সকলকে মনোযোগী হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. তানিয়া রহমান, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. ফারুক আলম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সালাউদ্দিন কাউসার বিপ্লব ও মাসুদ স্টিল ডিজাইন বাংলাদেশ লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম মাসুদুর রহমান।
বক্তারা তরুণ জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং এক্ষেত্রে সমাজ ও রাষ্ট্রের করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন।
উদ্বোধনী পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রোগ্রামের ফাউন্ডার প্রফেসর তাহমিনা আখতার। তিনি বাংলাদেশের কিশোর ও তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা, সেবা ব্যবস্থা এবং এক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মানসিক স্বাস্থ্য কর্মীদের ভূমিকার বিষয়ে আলোকপাত করেন।

thumbnail
অনুষ্ঠানের সভাপতি ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্ক মাস্টার্স প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহীন খান বলেন, তরুণ বয়সেই মানুষের জীবনে নানা ধরনের পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তনগুলো কারো কারো কাছে অত্যন্ত আনন্দময় এবং কারো কারো ক্ষেত্রে এগুলো ভীতি ও মানসিক চাপ সৃস্টি করে। এই পরিস্থিতি সঠিকভাবে মোকাবেলা করতে না পারলে তরুণদের বিভিন্ন মানসিক সমস্যার সৃস্টি হয়। তাই তাদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়া জরুরি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্ক প্রোগ্রামের শিক্ষক প্রফেসর ড. মাহবুবা সুলতানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এসোসিয়েট প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ড. শাহানা নাসরীন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক প্রফেসর ড. এ এস এম আতীকুর রহমান, প্রফেসর ড. গোলাম রব্বানী, প্রফেসর ড. ফজলে খোদা, প্রফেসর ড.  এম রেজাউল ইসলাম, প্রফেসর ড. হাফিজ উদ্দিন ভূঞা, প্রফেসর ড. মোঃ রবিউল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. নাহিদ মাহজাবীন মুরশেদ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ হেলাল উদ্দিন আহামেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যালওয়ার্ক বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মোস্তফা কামাল, জনাব মোঃ শহিদুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ আশরাফুজ্জামান, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান জনাব আবদুল আউয়াল কবিরসহ আরও অনেকে।
দিনব্যাপী সেমিনারে দুটি সায়েন্টিফিক সেশনে পাঁচটি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। বিজ্ঞ আলোচকবৃন্দ প্রবন্ধের উপর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন এবং সায়েন্টিফিক সেশনের সভাপতিদ্বয় সেশন পরিচালনা করেন।
ক্লিনিক্যাল সোশ্যালওয়ার্ক প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহীন খানের সমাপনি বক্তবের মধ্যদিয়ে দিনব্যাপী জাতীয় সেমিনারের কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়।