প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি রুখতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দুই শিফটে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। বুধবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর একটায় উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘আসন্ন ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতি ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এবারই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে কোনও কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে পরীক্ষা সংক্রান্ত গোপনীয় কাগজপত্র আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়ে যায়। আমরা যেহেতু এই ঝুঁকি নিতে চাই না তাই দুই শিফটে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি। তাছাড়া যদি কোনও অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে তাহলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবো। শুধু তাই নয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হবে।’
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে কারোর কোনও অভিযোগ থাকলে পর্যাপ্ত প্রমাণসহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে (স্ব স্ব ইউনিট কো-অর্ডিনেটর) একঘন্টা আগে লিখিতভাবে জানাতে হবে। তাছাড়া পরীক্ষার হলের বাইরের কোনও লেখার সঙ্গে ২০-৩০ শতাংশ মিল পাওয়া গেলে তা প্রশ্ন ফাঁস হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। অবশ্যই প্রশ্নপত্রের সাথে শতভাগ মিল থাকতে হবে। এছাড়া কোন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে চেহারা অমিল খুঁজে পেলে বা কোনও কারণে পরীক্ষকের সন্দেহ হলে ‘এন্টি প্রক্সি এপস’ এর মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তথ্য যাচাই করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নসহ পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়েছে। তাছাড়া পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত পরীক্ষকদের পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৫ মিনিট আগে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলতে হবে। কোনও পরীক্ষার্থী মেমোরি স্টোরেজ আছে এমন কোন ক্যালকুলেটর এবং ঘড়ি ব্যবহার করতে পারবে না। এছাড়া মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করা যাবে না। পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের মুখ এবং কান ঢেকে রাখা যাবে না। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১৫ মিনিট আগে পরীক্ষার হলের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ সময় পরীক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে যেকোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরিন আখতার, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: সেকান্দার চৌধুরী, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এফ এম আওরঙ্গজেব, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহামেদ, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ বি এম আবু নোমান, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. হানিফ সিদ্দিকি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমদ এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) এ এম আকবর হোসাইন।
প্রসঙ্গত, এ বছর ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় ৪ হাজার ৯২৬টি আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ২৪৭টি। ফলে প্রতি আসনের বিপরীতে লড়বে ২৭ শিক্ষার্থী। আগামী ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।