রংপুর থেকে আসা অভিভাবক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ থেকে আমার মেয়েকে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু পরীক্ষার পর কোনও গাড়ি না থাকায় মেয়েকে নিয়ে যেতে পারছিনা। এখান থেকে রংপুরের এমনি সরাসরি কোনও ভালো গাড়ি নাই। ঢাকা গিয়ে তারপর রংপুর যেতে হবে। ঢাকাতেই যেতে পারছিনা।’
বান্দরবান থেকে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থী সামা মার্মা বলেন, ‘৩০ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা আছে। কিন্তু চট্টগ্রামের সঙ্গে নোয়াখালীর যান চলাচল বন্ধ থাকায় আবার কালকেও ধর্মঘট থাকায় পরীক্ষা দিতে পারব কিনা অনিশ্চয়তায় আছি।’
নোয়াখালী পৌর মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেল বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে নোয়াখালীতে আটকে পড়া অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভলান্টিয়াররা খাবার বিতরণ করছেন।’ থাকার ব্যবস্থা করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাধ্যমতো চেষ্টা চলছে।’
ধর্মঘটের কারণে নোবিপ্রবির রবিবারের ‘ই’ ইউনিটের পরীক্ষা সকাল সাড়ে ১০টার পরিবর্তে ১১টা ১০ মিনিটে শুরু হয়। ‘এফ’ ইউনিটের পরীক্ষা বিকাল ৩টার পরিবর্তে বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে শুরু হয় ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এম অহিদুজ্জামান বলেন, ‘নোয়াখালী জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ রাস্তা ক্লিয়ার রাখায় ভর্তি পরীক্ষার্থীদের গাড়ি আসতে তেমন অসুবিধা হয়নি। আমরা ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সকাল থেকেই সরেজমিনে উপস্থিত ছিলাম। কর্মবিরতির জন্য কোনও শিক্ষার্থী পরীক্ষা অংশগ্রহণ করতে পারেনি, এমন কোনও তথ্য এখনও পর্যন্ত আমাদের কানে আসেনি।’
সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ির পাশাপাশি, নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরির উদ্যোগে মাইক্রোবাস, পৌর মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেলের ব্যক্তিগত উদ্যোগে মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসযোগে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীদেরকে পরীক্ষাকেন্দ্রে আনার ব্যবস্থা করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দফতর সূত্রে জানা গেছে, ‘ই’ ইউনিটের পরীক্ষায় ১৬৭ আসনের বিপরীতে ৩ হাজার ২৩৭ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেন। প্রতি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৯ জন। আর ‘এফ’ ইউনিটে ৯০ আসনের বিপরীতে আবেদন করেন মোট ৩ হাজার ৩১৬ জন। এতে প্রতি আসনের জন্য লড়াই করেন ৩৭ জন। উভয় ইউনিটের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ।