কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বাৎসরিক শিক্ষাসফর বন্ধ হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যদিবসের মাঝে ৩-৫ দিনের দিনের শিক্ষাসফরে যাওয়ার ব্যাপারে আর অনুমতি দেওয়া হবেনা বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো: আবু তাহের বলেন, 'অন্যান্য বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিটি বিভাগের একটি ব্যাচ (বিদায়ী বর্ষের) স্টাডি ট্যুরে দেশ বা বিদেশে যেতে পারবে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বরাদ্দও দেওয়া হবে। তবে বর্তমানে সেশনজটের কথা বিবেচনা করে ৩ থেকে ৫ দিনের শিক্ষা সফরে কোনও বরাদ্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি দেওয়া হবে না। বিভাগ ইচ্ছে করলে একদিন-দুইদিনের (শুক্র ও শনিবার) বনভোজনে যেতে পারবে।'
৩-৫ দিনের শিক্ষাসফরকে সেশন জটের কারণ হিসেবে বলা হলেও, ২০১৯ সালের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শুক্র-শনি সাপ্তাহিক বন্ধ ১০৪ দিন এবং জাতীয় দিবস, ধর্মীয় উৎসব ও সরকারী ছুটি মিলিয়ে ৬৩ দিন বন্ধ থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়টি। অর্থাৎ এ বছরের মোট ১৬৭ দিন বন্ধ থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত বছর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষাসফর নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ছিল না। তবে গত বছর নিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভাগগুলোকে শুধুমাত্র স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষাজীবনের একবার শিক্ষাসফরে যাওয়ার অনুমতি দেন। ঐ ‘মৌখিক নিয়ম’ এবছর কার্যকর হওয়ার পর এই শীতের মৌসুমে শিক্ষাসফরে যেতে না পারায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, ৩ থেকে ৫ দিনের এই শিক্ষাসফরের মাধ্যমে একটি বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত হয়ে থাকে এ কয়দিন। তাই এখন থেকে শুধুমাত্র একদিন-দুইদিনের বনভোজনের (পিকনিক) আয়োজন করা যাবে পুরো বিভাগের। তবে সেটা কোনও ধরনের ক্লাস বন্ধ করে না, বরং শুক্র ও শনিবার হতে হবে। আর শুধুমাত্র বিদায়ী বর্ষের শিক্ষার্থীরাই ৩-৫ দিনের সফরে যেতে পারবে। এদিকে প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষাসফরের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব জানিয়ে সমালোচনা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা শিক্ষাসফরকে নিজেদের বন্ধন দৃঢ় করার বিষয় হিসেবে দেখেন। একইসাথে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে পূর্বের নিয়মে শিক্ষাসফর আয়োজনের অনুমতি চান তারা।
অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের শিক্ষার্থী নিলয় কুমার শাহা বলেন, ‘আমরা সারা বছর অপেক্ষায় থাকি প্রিয় শিক্ষকদের সাথে কখন ট্যুরে যাব। কিন্তু এ বছর জুনিয়র ব্যাচ থেকে ট্যুরে না যেতে দেওয়াটাকে আমি কোনও ভাবেই সমর্থন করতে পারছি না। মাস্টার্সে ওঠার পর সবাই বিভিন্ন দিকে ব্যস্ত হয়ে যায় তাই আমি শঙ্কিত তখন ট্যুরে যাওয়া আসলে হবে কিনা।’
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমদাদুল হক সম্রাট বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুর মানে হল একটা ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র জুনিয়র সকল ব্যাচের একটা মিলনমঞ্চ। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমি সবিনয় দাবি করছি যে আমাদের বছরের এই দুয়েকটা দিনের অপেক্ষাকে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তুলনাপূর্বক উপেক্ষা করবেন না।’