মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালসহ ছয়দফা দাবিতে রাবি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

১ম ও ২য় শ্রেণির সরকারী চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালসহ ছয় দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ঢাকা-রাজশাহী মহসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে তারা এ কর্মসূচি পালন করে। এদিকে দুই ঘন্টা যাবৎ যানচলাচল বন্ধ থাকায় সড়কের দুই পাশে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

ru photo 1
তাদের দাবিগুলো হলো- সরকারি সকল চাকুরিতে ৩০ শতাংশ কোটা বহাল রেখে বিশেষ কমিশন গঠন করে তার শতভাগ বাস্তবায়ন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সংরক্ষিত পদগুলো বিশেষ নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ, রাজাকারসহ স্বাধীনতা বিরোধী ও তাদের বংশধরদের সরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে চাকুরিচ্যুত ও নিয়োগের ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা, জাতির পিতা ও তার পরিবারসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের অবমাননাকারীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবিধানিক স্বীকৃতি ও পারিবারিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং প্রয়োগ নিশ্চিত, সরকারি চাকুরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্মের বয়সসীমা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আনুপাতিকহারে বৃদ্ধি।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক অমর শুভ রায় বলেন, ‘বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য আমাদের কারোর বাবা, কারোর চাচা কিংবা দাদা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন। আমরা তাদের বংশধর। অথচ বর্তমানে আমরাই উপেক্ষিত হচ্ছি।’
কোটা আন্দোলনের নামে শিবির দেশব্যাপি অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে মন্তব্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণ আহ্বায়ক কমিটির উপদেষ্টা তারিকুল হাসান বলেন, ‘আমার বাবার বুকে বুলেট বিদ্ধ হওয়ার বিনিময়ে আমরা এই দেশ পেয়েছি। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে শিবির ক্যাডাররা দেশে একটি অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ফুঁসলিয়ে তারা তাদের কু-উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তাদের এই ষড়যন্ত্র কোনদিন সফল হতে দেওয়া হবে না।’
কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে রাজশাহীর হামিদপুর-নওদাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ চৌধুরী সমাবেশে বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ করেছি, রক্ত দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছি। কিন্তু আজ আমাদের সন্তান-সন্ততিদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের অধিকার রক্ষা করুন।’ এদিকে কর্মসূচি চলাকালে সড়কে অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া বাকি সব যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সড়কের দুই পাশে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হয়।সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণ কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের অর্ধশত শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।