ছাত্রলীগ নেতার বহিষ্কারের দাবিতে মাভাবিপ্রবিতে বিক্ষোভ

মাভাবিপ্রবিমাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের এক নেতা ও তার সহযোগীদের বহিষ্কারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে দিনভর বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রবিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম শিকদার ও তার সহযোগী আতিক, অনিন্দ্র, রাশেদ, জিল্লুর, মিজানের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কারের দাবী জানিয়ে দিনভর বিক্ষোভ করে। দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা।

বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শুভ অভিযোগ করেন, সায়েম শিকদার ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের নামে ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। প্রায় দেড় মাস সম্মান দেখিয়ে তারা চুপচাপ ছিলেন। কিন্তু শিবির আখ্যা দিয়ে রানাকে এবং ফেসবুকে চ্যাট করা নিয়ে ফাহিম ও শুভকে পেটানোর পর তারা ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন। এর আগেও ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে নতুন পাঁচজন শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হন। আর এ সবের পেছনে ছাত্রলীগ নেতা সায়েম শিকদার ও তার সহযোগীরা রয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আতিক রাত ৮ টার দিকে মান্নান হলে ডেকে নিয়ে হলের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে আটকে রাখেন। প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রাখার পর সায়েম, মিজান, রাশেদ, অনিন্দ্র এসে আমাকে হলের ছাদে নিয়ে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা মারধর করেন। মারধরের এক পর্যায়ে আমার গলায় ছুরি ধরে জোরপূর্বক আমি শিবির করি এমন স্বীকারোক্তি আদায় করে ও তা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। এসময় ফেসবুকে চ্যাট করার অভিযোগ তুলে আমার বাকি দুই বন্ধুকেও তারা স্ট্যাম্প দিয়ে মারধর করে।

তবে ছাত্রলীগ নেতা সায়েম শিকদার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের নিয়ে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা জানতে পেরেছিলাম রানা নামে একটি ছেলে শিবির করে। তাকে আমরা হলে ডেকে এনে বুঝিয়েছি যেন আর শিবির না করে। তাকে মারধর করিনি। এছাড়া ফাহিম ও শুভ নামে কাউকে মারধরই করিনি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা মিটিং এ বসেছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে খুব শীঘ্রই দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’