জবিতে বর্ষবরণে মেতেছে পুরান ঢাকা

57213826_865177537162147_8411875719038107648_oজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বর্ষবরণ উৎসবে মেতেছে পুরান ঢাকাবাসী। বর্ণিল ও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে জবিতে পালিত হয়েছে বর্ষবরণ ১৪২৬।

সকাল ১০টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড মীজানুর রহমানের নেতৃত্বে মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর্ষবরণ উৎসব। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, ওয়াইজ ঘাট, আহসান মঞ্জিল, মুন কমপ্লেক্স, পাটুয়াটুলী, বাটা ক্রসিং শেষে আবারো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়।

মঙ্গল শোভাযাত্রায় পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পুরান ঢাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিগণ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহও অংশ নেয়।

এবছর মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ছিল নদী। নদীর বিভিন্ন অনুষঙ্গ হিসেবে শোভাযাত্রায় শোভা পায় ময়ূরপঙ্খী নৌকা, বাইচ নৌকা, শুশুক, বিশাল ইলিশ মাছ। মুখোশের পরিবর্তে বিভিন্ন প্রকারের মাছের প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়।

শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম এ আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে জবি উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশ একটি নাম যার পিতা বঙ্গবন্ধু, যার মাতা নদী। এদেশের ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা। আমরা এবার মঙ্গল শোভাযাত্রায় আমাদের স্লোগান রেখেছি, ‘নদী বাঁচলে বাঁচবে দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’। আমরা বাঙালিত্ব ধারণ করে আমাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।

57032099_865177703828797_5125779086769127424_o‌তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের দারিদ্রসীমা কমে যাচ্ছে, মানুষ দিনে দিন ধনী হচ্ছে। তবে এখন যে অপশক্তি আমাদের উপর ভর করেছে, তাতে মনে হয় মানুষ মনুষ্যত্ব সীমার হারিয়ে ফেলছে। মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে গেলেও মানুষ্যত্বসীমার বাহিরে চলে যাচ্ছে। ফেনীর যে ঘটনা তা মেনে নেওয়ার মতো না। কারণ এতো কম বয়সী একজন মেয়ের উপর নারীসহ সমাজের উচ্চস্তরের মানুষেরা যে পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে তা মানবতার সব স্তরকেও হার মানায়। আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই পথ চলতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ট্রেজারার অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষক সমিতির সভাপতি দিপীকা রাণী সরকার, সাধারণ সম্পদক ড নূর মোহাম্মদ প্রমূখ।

বর্ষবরণ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাঙ্গনে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলা উপলক্ষে ক্যাম্পাসে ভিড় জমিয়েছে জবির আশেপাশের বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও পুরান ঢাকাবাসী। মেলায় বিভিন্ন প্রকার দেশীয় পণ্যসামগ্রী ও পিঠা বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের নিচতলায় ‘প্রকাশনা প্রদর্শনী’চলছে।