সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রুসেলা অ্যাবোরটাস’ নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে বাংলদেশে গরু ও মহিষে ব্রুসেলোসিস রোগ হয়ে থাকে। ব্রুসেলোসিস একটি জুনোটিক (যা একইসঙ্গে মানুষ এবং গবাদি পশুতে সংক্রমিত হয়) রোগ। কিন্তু ‘ব্রুসেলা অ্যাবোরটাস’ ব্যাকটেরিয়ার প্রায় ৮টি ভ্যারাইটি থাকায় দেশে কোনটি দ্বারা এ রোগ হয় তা এতদিন অজানা ছিল। ব্যাকটেরিয়ার এসকল ভ্যারাইটিকে বায়োভার বলা হয়। ২০১৫-২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ তিন বছরের গবেষণা করে দেশে গরুর ব্রুসেলোসিস রোগের জন্য দায়ী ‘ব্রুসেলা অ্যাবোরটাস বায়োভার-৩’ ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে আক্রান্ত প্রাণির রক্ত বা দুধে এই রোগের অ্যান্টিবডির উপস্থিতি নির্ণয়ের মাধ্যমে ব্রুসেলোসিস রোগ শনাক্ত করা হয়। গবাদি পশুতে এ রোগ শনাক্ত করার জন্য রোজ বেঙ্গল প্লেট টেস্ট, ইলাইসা, মিল্ক রিং টেস্ট ব্যাবহার করা হয়। তবে এই পরীক্ষা গুলো অনেক সময় আক্রান্ত প্রাণিতে সঠিকভাবে ব্রুসেলোসিস রোগ নির্ণয় করতে পারে না। তাই ব্রুসেলোসিস নিশ্চিত করার সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি হলো আক্রান্ত প্রাণি থেকে এ রোগের ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা। কারণ ব্যাকটেরেয়া শনাক্ত করলেই রোগ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছে যা আমেরিকার ন্যাশন্যাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনের জিন ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। আর এই জিনোম সিকোয়েন্স ব্যবহার করে ব্রুসেলোসিস রোগ নির্ণয় পদ্ধতি এবং এর কার্যকর টিকা উদ্ভাবন সম্ভব হবে। যেহেতু ব্রুসেলোসিস একটি জুনোটিক রোগ গরুতে এই রোগ নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হলে মানুষেও এই রোগের প্রাদুর্ভাব কমানো সম্ভব হবে।