কার্যনির্বাহী পরিষদের এই নির্বাচন ১১টি পদের বিপরীতে মোট ২৩ জন সদস্য তাদের প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন। সভাপতি পদে ২ জন, সহ-সভাপতি পদে ২ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ৩ জন, যুগ্ম সম্পাদক পদে ২ জন, কোষাধ্যক্ষ পদে ২ জন এবং সদস্য পদে ১২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা ইতোমধ্যেই অনলাইন ও অফলাইনে নিজ নিজ পক্ষে ভোট চাইছেন। প্রার্থীদেরকে সমর্থন করে অনেকেই অনলাইনে ও ব্যক্তিগতভাবে নিজ নিজ প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইছেন।
শীর্ষ পদপ্রার্থীদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, অতীতে তারা ক্যাম্পাসে প্রত্যক্ষভাবে হয় ছাত্রলীগ নতুবা ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। সভাপতি পদের প্রার্থী কামরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ২য় কমিটির (৯৩-৯৪ সাল) সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ শাকসু’তে ছাত্রদলের মনোনয়নে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। অপর প্রার্থী সঞ্জিত বণিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ৩য় কমিটির(৯৫-৯৬ সাল) সভাপতি ছিলেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৩ জনই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এই পদের প্রার্থী মোহাম্মদ আখতারুজ্জামাম চৌধুরী রিন্টু ৯৫-৯৬ সালের ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে সহ-সম্পাদক ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মাহবুবুর রহমান দিপু বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এবং অপর প্রার্থী মোস্তফা মনোয়ার সুজন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও সে সময় ছাত্রলীগের কোনও কমিটি না হওয়ার কারণে তিনি কোনও পদ পাননি।
এছাড়াও, সহ-সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন আশরাফ হোসেন আখন্দ ও ব্যরিস্টার কাইছার তালুকদার। যুগ্ম সম্পাদক পদে শাহ মো: হামজা আনোয়ার ও আফজাল হোসেন আখন্দ রনি; কোষাধ্যক্ষ পদে খলিলুর রহমান সোহেল ও কাজী গোলাম কদর স্বপন এবং সদস্য পদে মো: মাসুদুর রহমান, নুরে আলম মিল্টন, এইচ এম মামুন, সাঈদ আবদুল্লাহ যীশু, ফাতেমা জেরিন ফারহানা, সমসের রাসেল, মাহমুদ ফারুক মনির, মোহাম্মদ আফরিন খান নবেল, বরকত উল্লাহ, মোশাররফ হোসেন পলাশ, রুম্মন হাসনাত ও নুরে আলম সিদ্দিকী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
শীর্ষ পদ ছাড়াও অন্যান্য পদের প্রার্থীরা ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, শিবির এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের শীর্ষ পদে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ভোটারের সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনে ছাত্র সংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিবর্গ অংশ নিতেই পারেন। তবে আমরা প্রতিক্রিয়াশীল ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি সম্পর্কে সচেতন আছি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মাঝেও এই প্রগতিশীলতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতার ছাপ আছে। তাই প্রতিনিধি নির্বাচনে আমরা পদ প্রত্যাশীদের অতীত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরও খোঁজ খবর নিচ্ছি। প্রতিক্রিয়াশীল ও অশুভ শক্তি যাতে ভোটারদের ভুল বুঝিয়ে নেতৃত্বে না আসতে পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।