ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোনও পদক্ষেপ নেই শাবি প্রশাসনের

সারাদেশে যখন ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করেছে তখন একই আতঙ্ক বিরাজ করছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। ইতোমধ্যে সিলেটে প্রায় শতাধিক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। যদিও শাবিতে এখনও ডেঙ্গু আক্রান্ত কাউকে পাওয়া যায়নি, তবে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে শাবিতে তেমন কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। 

SUST gate pic

এদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী মারা গেছেন। এছাড়া দেশের অধিকাংশ জেলাতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সেখানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নির্বিকার শাবি প্রশাসন, এখনও দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপের দেখা মেলেনি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার মনে প্রশ্ন উঠেছে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী ভাবছে শাবি প্রশাসন? 

ডেঙ্গু বহনকারী এডিস মশা নিধনে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এ নিয়ে শাহপরান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মুরাদ জানান, ক্যাম্পাসে মশার বিস্তার ঘটেছে। আবাসিক হল বা ক্লাসরুমে মশার অত্যাচারে বসা যায় না। এদিকে মশা নিধনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আবাসিক হলের শিক্ষার্থী আতাউর রহমান বলেন, ‘আবাসিক হলগুলোতে মশার উৎপাত অনেক বেড়েছে। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ আমরা দেখিনি। এছাড়া এর আগে আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি মশা নিধনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে মশার কয়েল বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হয়েও এখনও আমরা কিছু পাইনি। শুনেছি সেগুলো গত চারমাস যাবত স্টোর রুমে হল প্রশাসন রেখে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া কয়েল চারমাস যাবত কেনও হল প্রশাসন স্টোররুমে রেখে দেয় তা জানা নেই আমার।

১ম ছাত্রী হলের এক শিক্ষার্থী জানান, দেশে যখন ডেঙ্গুর আক্রমণে কয়েক শতাধিক মানুষ আক্রান্ত, সেখানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সবাই বিরাট আতঙ্কে রয়েছে। ডেঙ্গু আক্রমণ সারা দেশে থাকলেও শাবিপ্রবিতে কোনও ঔষধ ছিটানো, হলের চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা বা মশা নিধনে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে ছাত্রী হলগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলেও জানান তিনি। 

সরেজমিনে ক্যাম্পসের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন স্থানে নালা বা ছোট ছোট ডোবাতে পানি জমে থাকে। দীর্ঘদিন এসব জায়গাতে পানি জমে থাকায় সেখানে মশার জন্ম হয়। এছাড়া ক্যাম্পাসের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা খুব একটা ভালো নয়। অধিকাংশ নালা ফসলের জমিতে গিয়ে মিলিয়ে গেছে। ফলে সেখানেও অনেকদিন ধরে পানি জমে থাকে এবং সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। ফলে সেখানে মশা ও পোকামাকড় জন্ম নেয়। কিন্তু আজও তার কোনও সমাধান হয়নি।

এদিকে ডেঙ্গুতে শাবিতে কেউ আক্রান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে শাবির প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা কৃষ্ণপদ আচার্য বলেন, ‘কয়েকজন শিক্ষার্থী সন্দেহ বশীভূত হয়ে মেডিক্যালে এসেছিল। তাদেরকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার কোনও লক্ষণ পাওয়া যায়নি।’ তবে শিক্ষার্থীদের মাঝে এটা নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলেও জানান তিনি।

সকলকে সচেতন হবার আহ্বান জানিয়ে প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা বলেন, ‘ডেঙ্গু বহনকারী এডিস মশা নিধনে পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে, প্রয়োজনে ঔষধ ছিটানো বা মশার স্প্রে করা যেতে পারে। পাশাপাশি সকলকে এ বিষয়ে সচেতন হতে পরামর্শ দেন।

এদিকে শাহপরান হলের চারপাশে মশা নিধনে নিজ উদ্যোগে হলের চারপাশ পরিষ্কার করা ও ব্লিচিং পাওডার ছিটানো হয়েছে বলে জানান শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান খান। 

তিনি বলেন, ‘মশা নিধনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা করি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর আমি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের সাথে নিজ উদ্যোগে কথা বলেছি । দ্রুতই মশা নিধনে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এসএম হাসান জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘হলের চারপাশ পরিষ্কার করা হয়েছে। মশার কয়েলের বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে এখনও কয়েল বিতরণ করা হয়নি। দুই-একদিনের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে মশার কয়েল বিতরণ করা হবে।’

বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক শরীফা ইয়াসমিন বলেন, ‘কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে কয়েল বিতরণ করা হয়েছে। তবে হলের আশপাশে নিচু জমি থাকায় সেখানে পানি জমে থাকে। ফলে মশা ও পোকামাকড়ের জন্ম হয়। এদিকে সেখানে পানি যেন না জমে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম কিন্তু তারা কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।’

মশা নিধনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি নিজ উদ্যোগে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও সচিবের সাথে এ বিষয়ে কথা বলেছি। দ্রুত সময়ে মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে মশা নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে মেয়র জানিয়েছেন।’