ছাত্রী উত্ত্যক্ত দায়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র প্রবীর ঘোষকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। অভিযুক্তের বহিষ্কার দাবিতে তিন দিনের আন্দোলনের পর এ ঘোষণা দিলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (৮ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রবীর ঘোষের বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে বহিষ্কারাদেশ পাঠ করেন সহকারী প্রক্টর মরিয়ম ইসলাম লিজা। এতে বোর্ড অব রেসিডেন্স, হেলথ স্যন্ড ডিসিপ্লিন- এর সদস্য সচিব ও প্রক্টর অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান স্বাক্ষর করেন।
বহিষ্কারাদেশে বলা হয়, গত ১ মার্চ অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ১১তম ব্যাচের র্যাগ ডের অনুষ্ঠান শেষে যাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়স্থ কাঁটা পাহাড় সড়কে রাত ৯টার দিকে চবির ওই বিভাগের এক ছাত্রীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক)-এ বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করার ঘটনায় প্রবীর ঘোষকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হলো।
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বহিষ্কারের তারিখ হতে ওই শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বাতিল বলে গণ্য হবে। তাই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণ বা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং আবাসিক হলে অবস্থান করতে পারবে না। অন্যথায় তাকে গ্রেপ্তারসহ তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা দায়ের করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
এর আগে ১ মার্চ হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ছাত্রীকে শারীরিক লাঞ্চনার দায়ে প্রবীর ঘোষকে ১ মাসের কারাদণ্ড দেয়। তবে সাজা প্রাপ্তির ৩ দিনের মাথায় জামিন নিয়ে বের হয়ে আসে প্রবীর ঘোষ। এতে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা তার বহিষ্কার দাবিতে আন্দোলন করে।