হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(হাবিপ্রবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) পুনরায় রূপালী ব্যাংকের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা স্থানান্তরে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে মানববন্ধন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আগে গত বছরের মে মাসে টিএসসিতে রূপালী ব্যাংকের শাখা স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে।এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে শাখা স্থানান্তরের কাজ বন্ধ রাখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে করোনায় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় পুনরায় টিএসসিতে ব্যাংকের শাখা স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়েছে।
মানববন্ধনে ১৬ ব্যাচের দিপু রায় বলেন, ‘টিএসসি সাধারণ শিক্ষার্থীর জন্য। সুতরাং টিএসসিতে ব্যাংক করাটা অযৌক্তিক, অতি শীঘ্রই ব্যাংক স্থানান্তর করে টিএসসিকে সাধারণ শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’
জুয়েল রানা বলেন, ‘টিএসসি এমন একটি স্থান যেখানে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য গ্রুপ ডিসকাশন, সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামের জন্য রিহার্সাল বা শিক্ষক পরামর্শের জন্য ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু ব্যাংক একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা ও বিনোদন কার্যক্রম এবং ব্যবসা একসাথে কখনোই চলতে পারে না। আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি, অতি শীঘ্রই টিএসসি থেকে ব্যাংক অপসারণ করা হোক।’
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) ৫ম তলা বিশিষ্ট। এর মধ্যে শ্রেণীকক্ষ সংকটের দরুণ ৪র্থ এবং ৫ম তলা যথাক্রমে স্থাপত্য বিভাগ এবং এগরিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ৩য় তলা ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন টিএসসির ২য় তলায় রূপালি ব্যাংকের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা পুনরায় স্থানান্তরের অনুমোদন দিলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে।
টিএসসিতে ব্যাংকের শাখা স্থানান্তরের বিষয়ে হাবিপ্রবির প্লানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘এটা আমার বিষয় না। আপনারা ভিসি স্যারের সাথে কথা বলুন। স্যার অনুমতি দিয়েছেন কাজ শুরু করার জন্য।’
এদিকে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ ফজলুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘এতে সমস্যার কিছু দেখি না। কারণ দশ তলা ভবনের কাজ শেষ হলে টিএসসির চতুর্থ এবং পঞ্চম তলার ক্লাশগুলো ওখানে শিফট করা হবে। তখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা ওই ফ্লোরগুলো পাবে।’
তবে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আবুল কাসেমের সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।