বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরে জড়িতদের শাস্তির দাবি রাবি শিক্ষক সমিতির

কুষ্টিয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। সোমবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একাত্তরে সেই পরাজিত শক্তি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা কখনোই মেনে নিতে পারেনি, কারণ এর আগে তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাকে সপরিবার নির্মমভাবে হত্যা করেছে। ধর্মের লেবাসে আজও তারা এই রাষ্ট্রের মূল চেতনাকে ধূলিসাৎ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তারা রাজধানীর ধোলাইরপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতার নামে শুধু জাতির পিতা ও এই রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি কটাক্ষ ও চরম অবমাননাই করেনি, একাত্তরে যে এলাকায় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়েছিল, সেই কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার মতো ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। এই কাজের জন্য তারা ৫ ডিসেম্বরের মতো এমন একটি দিনকে বেছে নিয়েছে, ১৯৬৯ সালের যে দিনটিতে বঙ্গবন্ধু এই রাষ্ট্রের নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ।’

ভাস্কর্য ভাংচুরে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ধোলাইরপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করা ও কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাংচুরের মাধ্যমে ধর্মীয় মৌলবাদীরা বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নস্যাতের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সূচনা করলো বলে আমরা মনে করি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি তাদের এসব অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা জানায় এবং বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরে জড়িত ও এর প্রকাশ্য-নেপথ্যের ইন্ধনদাতাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।