হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হাল্ট প্রাইজ অন ক্যাম্পাস ইভেন্টটির ফাইনাল রাউন্ড গত ১৩ ডিসেম্বর সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া মোট ৪৭টি টিমের মধ্য থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে হাবিপ্রবির ‘টিম প্রোটিন বুস্টার।’
প্রতিযোগিতাটি দুইটি রাউন্ডে বিভক্ত ছিল। প্রথম রাউন্ডে জমাদানকারী আইডিয়াগুলো থেকে অভিজ্ঞ বিচারকমণ্ডলী সেরা ৮টি টিমের আইডিয়া বেছে নেন। পরবর্তীতে এই ৮ টিম ফাইনাল রাউন্ডে অংশগ্রহণ করে।
ফাইনাল রাউন্ডে অনলাইনে বিচারকদের উপস্থিতিতে ৮টি টিম তাদের আইডিয়া স্লাইড উপস্থাপন করেন। বিচারকগণ তার মধ্যে থেকে সেরা টিমটিকে নির্বাচন করেন।
অন ক্যাম্পাস ইভেন্টটিতে প্রথম ও ফাইনাল রাউন্ডে বিচারক হিসেবে ছিলেন মো. শেখ ফরিদ মিলন (প্রজেক্ট ম্যানেজার, বিসটা সলুশন ইনকর্পোরেশন), মুজাহিদুল ইসলাম শামীম (প্রভাষক, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ, হাবিপ্রবি), মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল নাসিম (ফাউন্ডার এবং সিইও, পাইনিওর আলফা লিমিটেড) এবং মো. আসাদুজ্জামান টিপু (প্রভাষক, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ)।
হাবিপ্রবি অন ক্যাম্পাস ইভেন্টটিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘টিম প্রোটিন বুস্টার।’
চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন মো. রাশিদুর রহমান, মারযুকা মেহযাবিন, মো. রাকিবুল হাসান এবং মো. আবদুল্লাহ আল মেরাজ।
টিম লিডার মো. আবদুল্লাহ আল মেরাজ বলেন, ‘প্রথমবারের মতো হাবিপ্রবিতে অনুষ্ঠিত হাল্ট প্রাইজে চ্যাম্পিয়ান হতে পেরে নিজেদের গর্বিত মনে হচ্ছে। আমাদের টিমের সবাই মন দিয়ে চেষ্টা করেছে, খুব পরিশ্রম করেছে। ইনশাআল্লাহ পরবর্তী রিজিওনাল রাউন্ডেও আমরা ভালো কিছু করার চেষ্টা করবো।’
মো. রাশিদুর রহমানের মতে, ‘আমরা আমাদের রিসার্চ চালিয়ে যাবো আরও ভালো অর্জনের লক্ষ্যে।’
উচ্ছ্বসিত মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘আমরা সত্যি আনন্দিত। বিজয়ী হিসেবে আমার মতামত, চেষ্টা করলে এবং সঠিকভাবে তা বাস্তবায়ন ঘটাতে পারলে সাফল্য সুনিশ্চিত। আমাদের জন্য দোয়া করবেন, আমরা যেন ন্যাশনাল পর্যায়ে ভাল করতে পারি এবং হাবিপ্রবির জন্য গৌরব বয়ে আনতে পারি।’
মারযুকা মেহযাবিন বলেন, ‘টিম ওয়ার্ক ছাড়া কিছুই সম্ভব হতো না। পরবর্তী রাউন্ডে টিকে থাকাটাই এখন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ।’
প্রতিযোগিতায় ১ম রানারআর্প হয়েছে ‘টিম বায়ো কাল্টিভেটর’ ও ২য় রানারআর্প হয়েছে ‘টিম ডিল মেকারস’।
গত নভেম্বর মাসে হাবিপ্রবিতে হাল্ট প্রাইজ অন ক্যাম্পাস ইভেন্টটি অনুষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে ৩৫ সদস্যের অর্গানাইজিং কমিটি প্রকাশ করা হয়। অর্গানাইজিং কমিটির এডভাইজার হিসেবে ছিলেন রনি কুমার দত্ত (সহকারী অধ্যাপক, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাকিং বিভাগ)।
হাল্ট প্রাইজ হাবিপ্রবির ক্যাম্পাস ডিরেক্টর হিসেবে ছিলেন হাবিপ্রবি ইইই বিভাগের ১৮ ব্যাচের ছাত্র উষ্ণ দাশ এবং অর্গানাইজিং কমিটির প্রধান হিসেবে ছিলেন ইইই বিভাগের ১৭ ব্যাচের ছাত্র রাজীব শুভ্র দত্ত।
প্রোগামটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারায় উচ্ছ্বসিত রাজীব শুভ্র দত্ত বলেন, হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে হাল্টপ্রাইজ অন ক্যাম্পাস ইভেন্টটি আগামীতেও অনুষ্ঠিত হবে এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ বছরের মতো আগামী বছরগুলোতেও এতে হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে।