করোনার অযুহাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো বন্ধ রেখেই পরীক্ষা নিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যায় প্রশাসন। করোনা কি শুধু হলেই সীমাবদ্ধ? মেসের থেকে হলের পরিবেশ অনেক ভালো। মূল কথা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবত্র দুর্নীতি করেছে। ক্যাম্পাস খুললে শিক্ষার্থীরা এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলবে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ভয়ে ক্যাম্পাস খুলছে না রাবি প্রশাসন।
সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে আবাসিক হল খুলে একাডেমিক কার্যক্রম চালুর দাবিতে আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল হোসেন বলেন, ‘করোনা কি শুধু ক্যাম্পাস বা হলেই সীমাবদ্ধ? মেসের থেকে হলের পরিবেশ অনেক ভালো। আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন কোনও জায়গা নেই যেখানে দুর্নীতি নেই। এই দুর্নীতি ও লুটপাটকে ঢেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে থামানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাস ও হল খুলে দিতে চাইছে না।' এ সময় তিনি হল খুলে একাডেমিক কার্যক্রম সচল করার দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালায় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন মিলন বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে পরিমাণ দুর্নীতি করেছে, এতে বিশ্ববিদ্যালয় খুললে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তারা পদ থেকে নেমে যেতে বাধ্য হতে পারে। তাছাড়া আমরা আগেই জেনেছি যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীবান্ধব না। তাই তারা আমাদের দাবি মেনে নিচ্ছেন না।' দ্রুত সময়ের মধ্যে আবাসিক হল না খুলে দিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকটি দাবি জানান। তাদের দাবিগুলো হচ্ছে, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষার রুটিন ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের মধ্যে দেওয়া এবং আটকে থাকা পরীক্ষা দ্রুত সম্পূর্ণ করা, সিলেবাস কমিয়ে দ্রুত ক্লাস শেষ করা, হল ফি মওকুফ করা, শিক্ষার্থীদের সকল ধরনের ফি অর্ধেক করা।
শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ’র সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মহিউদ্দিন মানিক, আরবি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আবিদ হাসান।
প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরে মার্চ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হল বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হল খোলার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে রাবির আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার জোর দাবি উঠেছে।