নিজ ক্যাম্পাস থেকেই উপাচার্য চান হাজী দানেশ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) উপাচার্য ড. মু. আবুল কাসেম যোগদান করেছিলেন ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসেবে সোমবার তার নিয়োগের ৪ বছর মেয়াদ শেষ হয়েছে। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি উপাচার্যশূন্য। অবশ্য মেয়াদ থাকলেও ক্যাম্পাসের উপাচার্যের পদ শূন্য হয়েছে ২০ দিন আগেই। গত ১৩ জানুয়ারি রাতের আধারে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন উপাচার্য। এখন বিশ্ববিদ্যালয়টি চলছে উপাচার্য ছাড়াই।

নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্য ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম চললেও বেতন-ভাতাদি, উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, বিভিন্ন কাজের এপ্রুভাল স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তাই অনতিবিলম্বেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে থেকেই একজন উপাচার্য নিয়োগের
দাবি করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে ধারণ করেন এমন সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজনকে এই উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হোক। একই কথা জানিয়েছেন শিক্ষকরাও। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই উপাচার্য নিয়োগ হলে ক্যাম্পাস সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত থাকবেন। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন। শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পাশাপাশি পড়ালেখার মান উন্নয়নে অবদান রাখবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাষ্টার্স শেষবর্ষের শিক্ষার্থী রিয়াদ খান বলেন, ‘নতুন করে কাউকে উপাচার্যের দায়িত্ব না দিলে কর্মচারীদের যেমন বেতন বন্ধ থাকবে, তেমনিভাবে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশেও সমস্যা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দিলে ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ভালো থাকে। উন্নয়ন হয় বেশি, শিক্ষার্থীদের উপকার হয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এমনিতেই আমরা সেশনজটের মধ্যে পড়েছি। এখন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে ক্লাস-পরীক্ষা চালুর জন্য। কিন্তু এই আন্দোলনের কোনও সিদ্ধান্ত হচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য না থাকার কারণে। আমরা চাই অনতিবিলম্বে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকেই একজন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হোক।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য এবং সমাজবিজ্ঞান ও মানবিক অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ফাহিমা খানম বলেন, ‘আমাদের চাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই উপাচার্য আসুক। বাইরে থেকে কাউকে নিয়োগ দিলে প্রথম বছর বুঝতে চলে যায়, আর শেষের বছর চলে যাব চলে যাব অবস্থা। কাজ হয় মাঝের মাত্র দুই বছর। বাইরে থেকে উপাচার্য আসলে উন্নয়ন কাজ কম হয়। তার দায়বদ্ধতা কম থাকে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দিলে তিনি উপাচার্য হিসেবেও এখানে থাকবেন, আবার উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হলেও এখানেই থাকবেন। সেক্ষেত্রে উন্নয়নের আশা রাখা যায়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাইফুর রহমান বলেন, ‘কাকে উপাচার্য নিয়োগ দেবেন এটা সরকারের ব্যাপার। যাকে ভালো মনে করবেন, তাকেই দেবেন। তবে আমরা আশা করি যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. ফজলুল হক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ভালোভাবে চলতে হলে উপাচার্য হিসেবে দক্ষ শিক্ষক দরকার। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছরে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক উপাচার্য এসেছেন, কিন্তু এসে ভালো কাজ করার পরিবেশ তৈরি করতে পারেননি। আমি মনে করি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই উপাচার্য হওয়ার মত অনেক যোগ্য শিক্ষক রয়েছেন।’

উল্লেখ্য, এর আগের মেয়াদে ২০১৭ সালে ড. মু. আবুল কাশেমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার আগে ২০১৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে অর্থাৎ ৪ মাস ১০ উপাচার্যের পদটি শূন্য ছিল। ওই
সময়ে উপাচার্য না থাকায় নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়টিকে।