বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ ও শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের ১ম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ১৯৯১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি/ ১লা ফাল্গুন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। সিলেটের আখালিয়ায় ৩২০ একরের উপর প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ৩টি বিভাগের অধীনে ১২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলেও ৩০তম বছর পেরিয়ে ৩১তম বছরে পদার্পণ করছে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদের অধীনে ২৮টি বিভাগের অধীনে প্রায় সাড়ে পাঁচ’শ এর অধিক শিক্ষক ও ১০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ২টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইটি প্রশাসনিক ভবনসহ ৬টি শিক্ষা-ভবন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবন, ইউনিভার্সিটি সেন্টার, বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব, মেডিক্যাল ভবন, কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া, এক’শ এর অধিক সিঁড়ি বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনা রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেদের জন্য তিনটি ও মেয়েদের জন্য দু’টি আবাসিক হল রয়েছে।
এছাড়া নতুন করে শিক্ষাভবন-ডি এর এক্সটেনশন ভবন, সেন্টার অব এক্সিলেন্স ভবন, মেয়েদের জন্য ফজিলতুন্নেসা মুজিব আবাসিক হল নির্মাণ, ছেলের জন্য সৈয়দ মুজতবা আলী বর্ধিতকরণ, নতুন আঙ্গিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক নির্মাণ, বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের ওয়ার্কশপ নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলছে।
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য চেতনা ৭১’, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল নির্মাণ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গবেষণা সেল, দৃষ্টিনন্দন গোলচত্বর, গবেষণা কেন্দ্রসহ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও স্থাপনায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দিক থেকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে বিরাট সাফল্য। এর মধ্যে মোবাইলভিত্তিক দেশে প্রথম ভর্তি কার্যক্রম, বাংলা সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’ চালু, নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে বেস্ট ডেটা ইউটিলাইজেশন ক্যাটাগরিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, সামাজিক রোবট ‘রিবো’ ও ‘রোবট-লি’ তৈরি, ডাটা অ্যানালিটিক্যাল ও গেমিং অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট ল্যাব চালু, ড্রোন তৈরি, ক্যানসার শনাক্তকরণে কিট তৈরিসহ আরও অনেক কিছু রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ঝুলিতে।
এছাড়া সম্পূর্ণ ক্যাম্পাস নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা, সিসি টিভি ক্যামেরা দ্বারা সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা, অটোমেশন রেজাল্ট প্রসেসিং সিস্টেম চালু, সকল শিক্ষার্থীর জন্য আবশ্যিক কম্পিউটার কোর্স চালু, টায়ার-২ ডাটা সেন্টার, মোবাইলে অ্যাপসের মাধ্যমে ডিজিটাল উপস্থিতি চালু, বিভিন্ন ফি প্রদানে অনলাইন পেমেন্ট সার্ভিস চালু, ডিজিটাল লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুসহ নানা ধরণের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বাংলাদেশকে দেশ ও দেশের বাইরে তুলে ধরেছে।
গবেষণায় খাতেও রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরাট সুনাম ও সুখ্যাতি। গবেষণার মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, বন গবেষণা, ক্যান্সার নিয়ে গবেষণা, উদ্ভাবনীমূলক গবেষণাসহ বিভিন্ন ধরণের উল্লেখযোগ্য গবেষণা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।
এছাড়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটরা মাইক্রোসফট, অ্যামাজনসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে গবেষণারত রয়েছেন এখানকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
করোনাকালীন বৈশ্বিক মহামারিতেও একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে করোনা শনাক্তকরণ পিসিআর ল্যাব নির্মাণ, জিনোম সিকোয়েন্সির মাধ্যমে করোনাভাইরাসের প্রকৃতি ও সাদৃশ্যতা নির্ণয় ছিল উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও রয়েছে বিরাট অবদান। নাট্য, আবৃত্তি, মিউজিক্যাল ক্লাবসহ কয়েছে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। এছাড়া অসহায় ও পথশিশুদের নিয়ে কাজ করে কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে বিভিন্ন সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য ৫০ এর অধিক সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী ও শিক্ষা-গবেষণা বিষয়ক সংগঠন তাদের কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে করে সময়ের বিবর্তনে ৩০টি বছর অতিক্রম করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও গবেষনায় দেশের ১ম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে। আমি মনে করি, এ বিশ্ববিদ্যালয় সুশাসনের রোল মডেল হবে।’
উপাচার্য আরো বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকগুলো উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ চলছে। এগুলো শেষ হলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য চূড়ায় পৌঁছে যাবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা নতু ভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে পারবো বিশ্ব দরবারে।’
উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান উপাচার্য।