কাঠের তৈরি প্রত্নগুরুত্বপূর্ণ এক প্রাচীন স্তম্ভ উদ্ধার করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুর্শেদ রায়হান তার কুমিল্লা জেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের ইটাল্লা গ্রামে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার সময় এই স্তম্ভ খুঁজে পান।
জানা যায়, গবেষণা পরিচালনাকালীন সময়ে স্থানীয় জনগণ কর্তৃক পুকুর খনন করার সময় এক বিশাল কাঠের স্তম্ভ দৃশ্যমান হলে তিনি তা উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষক মুর্শেদ রায়হান বলেন, ‘কাঠের স্তম্ভটি পাওয়ার পর আমি তা সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসি। নিয়ে আসার প্রধান কারণ হলো এ ধরনের নিদর্শন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই ইউনিক ও দেশের খুব কম স্থান থেকে এ ধরনের কাঠের নিদর্শন পাওয়া গেছে। কারণ বাংলাদেশের আর্দ্র আবহাওয়ায় সাধারণত প্রাচীন কাঠের নিদর্শন টিকে থাকে না।'
স্তম্ভটি সংরক্ষণের ব্যাপারে তিনি বলেন, 'এটি একটি চমৎকার মিউজিয়াম অবজেক্ট। এটি সংরক্ষণ করতে যে বিষয়টি দরকার তা হলো কেমিক্যাল প্রিজারভেশন। এর জন্য মোটা অংকের ফান্ডের প্রয়োজন। আমাদের যেহেতু প্রিজারভেশন কনজারভেসন ল্যাবরেটরি আছে, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীরা কোর্সের অংশ হিসেবে কাঠের কনজারভেশন শেখার সুযোগ পাবে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাদুঘর হলে সেখানে এটাকে প্রদর্শন করা যাবে।'
এসময় তিনি ফান্ডের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি একটি প্রজেক্ট হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থাপন করবেন বলে জানান।
বর্তমানে এটির আর্দ্রতা ঠিক রাখার জন্য পাটের চটে মুড়ে পানি দিয়ে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া গবেষণা প্রকল্পের ওপর পাঁচথুবী ইউনিয়ন নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। তার রিসার্চের নাম 'ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড এক্সপ্লোরেশন অব আর্কিওলজিকাল রিমেইন্স: অ্যান এক্সপ্লোরাটোরি রিসার্চ ইন পাঁচথুবী অ্যান্ড সারাউন্ডিং রিজিয়নস অব কুমিল্লা।'