লোনের চেক গ্রহণ করেছেন হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) অধ্যয়নরত অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ক্রয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সফট লোনের চেক গ্রহণ করেছেন ৯১৯ জন শিক্ষার্থী (৪ এপিল পর্যন্ত)। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের উপ পরিচালক মো. মাহবুব রহমান চৌধুরী। 

মো. মাহবুব রহমান চৌধুরী জানান, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে রবিবার পর্যন্ত মোট ৯১৯ জন শিক্ষার্থী সফট লোনের চেক সংগ্রহ করেছেন (১০৫৮ জনের মধ্য থেকে)। তবে সফট লোনের জন্য যারা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তারা ক্যাম্পাস খোলার পর চেক ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগ থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।'

এদিকে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরান পারভেজ বলেন, 'ইউজিসির নীতিমালায় বলা আছে চেক গ্রহণের দশ দিনের মধ্যে মোবাইল ক্রয়ের ভাউচারটি জমা দিতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও শিক্ষার্থী মোবাইল ক্রয়ের ভাউচার জমা দেয়নি। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান থাকবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই যারা সফট লোনের চেক গ্রহণ করেছে তারা যেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের ই-মেইলে (directorsaadhstu@gmail.com) মোবাইল ক্রয়ের ভাউচারটির স্ক্যান কপি জমা দেয়।'

এছাড়া সফট লোনের টাকা পরিশোধের ব্যাপারে তিনি বলেন, 'শিক্ষার্থীরা চাইলে একবারেই পুরো টাকা পরিশোধ করে দিতে পারবে। কিংবা সর্বোচ্চ চারটি কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবে। সফট লোনের টাকা পরিশোধ করতে প্রথমে হাবিপ্রবির রুপালী ব্যাংক শাখা থেকে একটি রশিদ সংগ্রহ করে তা পূরণ করার পর হাবিপ্রবির হিসাব শাখা থেকে সিল/স্বাক্ষর নিতে হবে। এরপর ছাত্রপরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগ থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার নিয়ে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।'

অন্যদিকে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের তথ্য মতে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রাথমিক পর্যায়ে ২৫২৬ জন শিক্ষার্থীকে নির্বাচিত করে সেই তালিকা ইউজিসিতে পাঠায়। পরবর্তিতে ইউজিসির সিদ্ধান্ত মোতাবেক (বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর ১৫% ) ১৬৭০ জন শিক্ষার্থীকে সফটলোনের জন্য নির্বাচন করে। পরে সফট লোনের শর্ত উল্লেখ করে ঐ ১৬৭০ জনের কাছে পুনরায় সফটলোন জন্য আবেদন করতে বলা হয় । প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে মোট ১০৫৮ জন শিক্ষার্থী আবেদন করে।

নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রদানকৃত এই ঋণ সম্পূর্ণ সুদমুক্ত এবং স্মার্টফোন ক্রয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে চেক গ্রহণের ১০ দিনের মাঝে সফটলোন অনুমোদন কমিটির সদস্য-সচিবের নিকট জমা দিতে হবে।

এছাড়া, ইউজিসির নীতিমালা সম্বলিত নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই ঋণের অর্থ সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর কিংবা অধ্যয়নকালীন সময়ে ৪টি সমান কিস্তিতে বা এককালীন পরিশোধ করতে হবে এবং ঋণের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নামে কোন ট্রান্সক্রিস্ট ও সাময়িক/মূল সনদ ইস্যু করা হবে না।