কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও ঠুনকে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের বিদ্রোহী অংশ।
শনিবার (৩ জুলাই) ছাত্র ইউনিয়ন বিদ্রোহী অংশের দফতর সম্পাদক রাকিবুল রনি স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র ইউনিয়ন বিদ্রোহী অংশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈম যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও এক শিক্ষার্থীর মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ার ঘটনা সামনে এনেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মাহবুবুল হক। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ছাড়াও অন্যায়-অনিয়মের মুখোশ উন্মোচন করাও একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের দায়িত্ব। মাহবুবুল হক সেই দায়িত্বটিই পালন করেছেন। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় সংঘটিত অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে পক্ষপাতদুষ্ট ও দুর্নীতিপরায়ণ প্রশাসন উল্টো মাহবুবুল হকের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ধরণের আচরণ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসমূহের দুর্নীতিপরায়ণ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়।’
আবেদনের শুরুতে ‘টু রেজিস্ট্রার’ না লেখার অভিযোগ এনে পদোন্নতি পাওয়া একই বিভাগের শিক্ষক কাজী আনিছের পদোন্নতি বাতিল করবার ঘটনার পেছনে নিঃসন্দেহে কাজ করে বিদ্বেষ ও অসৎ উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তিদের কাছ থেকে এমন আমলাসুলভ আচরণ কাঙ্ক্ষিত নয়।
যৌথ বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, ‘দুর্নীতি ও অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিয়ে প্রতিবাদ করলে, অপরাধকে সামনে নিয়ে আসলে আমাদের দেশে আজকাল হেনস্থার শিকার হতে হয়। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সরকারের আজ্ঞাবহতার পতাকা বহনকারী আমলাতন্ত্রের প্রভাবে পুরো দেশ বিপর্যস্ত। আমলাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পাঠানোর মধ্য দিয়ে সরকার পুরো দেশের মত বিশ্ববিদ্যালয়েও তার নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে আগ্রহী। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুতুল প্রশাসনের কলকাঠি আসলে পেছন থেকে নাড়ছে খোদ সরকার। কাজেই এই দুইজন শিক্ষকের অপমানিত হওয়ার ঘটনার দায় সরকার কোনওভাবেই এড়াতে পারে না।’
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত বাতিল ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানান।