প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে স্থগিত পবিপ্রবির শিক্ষক সমিতির নির্বাচন

নানা নাটকীয়তা শেষে স্থগিত করা হয়েছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচন। গত ১৮ অক্টোবর ২০২১-২০২২ কার্যকালের জন্য তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। গত ২ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। তবে মনোনয়নপত্র বিক্রি করেনি নির্বাচন কমিশন। এতে নির্বাচন নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। পরে একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে এক নোটিশের মাধ্যমে নির্বাচনি তফসিলের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করেন।

এদিকে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন স্থগিত করায় শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

এ ঘটনায় শিক্ষকদের একটি পক্ষ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য পবিপ্রবি প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা শিক্ষকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও শিক্ষক সমিতি গঠনের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর অনাকাঙ্খিত হস্তক্ষেপ। আবেদনপত্রে শিক্ষকদের সম্মান রক্ষায় ও বৃহত্তর স্বার্থে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে হঠাৎ নির্বাচন স্থগিত করে দেওয়া ও নির্বাচন নিয়ে নানা নাটকীয়তার কারণে শিক্ষকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

যোগাযোগ করা হলে পবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি নির্বাচনের প্রধান কমিশনার প্রফেসর ড. এস এম তাওহিদুল ইসলাম বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। এ সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিব্রত বোধ করে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হননি। 

নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের কোনও আশঙ্কা ছিল কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসু বলেন, সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে শিক্ষকদের গ্রুপিং কোন্দলের বিষয়ে সতর্ক করে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পবিপ্রবির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, আগামী ২৭ নভেম্বরের ভর্তি পরীক্ষাকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ যাতে বিনষ্ট না হয়, সেজন্য নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানান তিনি। 

উল্লেখ্য, আগামী ৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।