ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গবেষণা, অবকাঠামো, শিক্ষার পরিবেশসহ সার্বিক বিষয়ের মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
শনিবার (১২ মার্চ) ঢাবির অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের শতবর্ষের মিলনমেলায় ‘বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই’ শীর্ষক আলোচনা সভার সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোর উন্নয়ন নয়, পরিমাণগত বিকাশের সঙ্গে গুণগত উৎকর্ষ যাতে হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। গবেষণা, প্রকাশনা ও অনুবাদ এই তিনটি কাজ করতে হবে। খুব বেশি দরকার হলো অনুবাদ করা। অনুবাদ হচ্ছে একটি সমবায়ী কাজ। এটা অনেকের সঙ্গে করতে হয়, পরামর্শ নিতে হয়। এই কাজে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অংশ নিতে পারে।’
বর্তমানে ডাকসু না থাকায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ৯ বছর ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ ছিলাম। সেই ৯ বছর দেশে সামরিক শাসন ছিল, তবুও ছাত্র সংসদ ছিল। তারপরই যখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এলো, তখন থেকে ছাত্র সংসদের নির্বাচন কার্যক্রম থেমে গেল। সেটা যে নেই, তা দুঃখের বিষয়।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র গঠনে ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে অনন্য ভূমিকা।’
এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় আগামী একশ’ বছরে কোথায় যাবে সে বিষয়ে ভাবার আহ্বান জানান অ্যালামনাই ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে। ফিজিক্যাল প্ল্যানের পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক মাস্টার প্ল্যান তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আবাসন সংকট নিরসনে মূল সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে। ধারণক্ষমতার দিকে খেয়াল না রেখে আসন বাড়ালে সমস্যা বাড়বে বই কমবে না।’
এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের প্রথম অর্থ সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণতম শিক্ষার্থী মতিউল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
সভাপতির বক্তব্যে এ কে আজাদ বলেন, ‘আগের তুলনায় শিক্ষার্থী বেড়েছে কিন্তু লাইব্রেরির পরিধি বাড়েনি। এখনও অনেক শ্রেণিকক্ষের জরাজীর্ণ অবস্থা! শুধু সরকারের সহায়তায় বিশ্বের প্রথম একশ’ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এজন্য অ্যালামনাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘৩৩ লাখের বেশি গ্র্যাজুয়েট তৈরি করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। দেশ স্বাধীন ও দেশ গঠনে ভূমিকা পালন করছে। জুন মাসের মধ্যে ৫০টির বেশি বই প্রকাশিত হবে, বেশ কিছু গবেষণা প্রকাশিত হবে।’ এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান উন্নয়নে অ্যালামনাইয়ের সামগ্রিক সহযোগিতা কামনা করেন।